Wednesday 06 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিয়ের আসরে ড্রাগন অ্যাটাক; নাগিন ৭-এর রোমহর্ষক রোমাঞ্চ

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
৪ মে ২০২৬ ১৭:৫০ | আপডেট: ৪ মে ২০২৬ ১৭:৫১

ভারতীয় টেলিভিশনের সবচাইতে জনপ্রিয় অলৌকিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘নাগিন ৭’ নিয়ে, তখন উত্তেজনা যে সাত আসমান ছাড়িয়ে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক। গত শনিবার (২ মে)-এর এপিসোডটি ছিল এক কথায় তথ্যে ঠাসা এবং রুদ্ধশ্বাস ঘটনার ঘনঘটা। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নেট দুনিয়ায় চলছে তুমুল উচ্ছ্বাস।

এপিসোড ৩৭-এর শুরুতেই যেন এক নস্টালজিয়ার ছোঁয়া পেলাম আমরা। ‘কিউকি সাস ভি কাভি বহু থি’-র সেই বিখ্যাত ‘অংশ’ বা ‘রিও’, অর্থাৎ আকাশদীপ সাইগল ফিরলেন এক দুর্ধর্ষ ভিলেনের বেশে। চেঙ্গিস্থানের এরুল পাশা হিসেবে তার এন্ট্রি ছিল রাজকীয় এবং ভয়ংকর। তার মূল লক্ষ্য অনস্তকুল রানীর গোপন নথি এবং মহামূল্যবান নাগমণি দখল করা। কিন্তু গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন পাশা একটি বিশালকায় ‘মডিফাইড অ্যানাকোন্ডা’ পাঠিয়ে আহানাকে অপহরণ করার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন ভার্নি (অ্যালিস কৌশিক)। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহানার জায়গা নেন এবং পাশার পাতা জালে বন্দী হন। সমুদ্রের গভীরে মডিফাইড শার্ক এবং অ্যানাকোন্ডার সাথে ভার্নির সেই লড়াই ছিল চোখের পলক ফেলার মতো নয়। রক্তাক্ত অবস্থায় ভার্নির সেই আত্মত্যাগ দর্শককে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, বিয়ের মণ্ডপে চলছিল এক চরম নাটকীয়তা। প্রিয়াঙ্কা চাহার চৌধুরী অভিনীত আহানা এবং নামিক পল অভিনীত আর্যমান। দুজনেই একে অপরের প্রতি ভালোবাসা লুকিয়ে রেখে যথাক্রমে বিক্রম ও রাধিকার সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর্যমান আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। রাধিকার সাথে মালাবদলের আগেই তিনি সবার সামনে আহানার প্রতি তার ভালোবাসার কথা স্বীকার করেন। বিক্রমও এখানে বড় মনের পরিচয় দেন এবং প্রকাশ করেন যে আহানাও আর্যমানকেই ভালোবাসে। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে আহানা ও আর্যমানের চার হাত এক হয়। তাদের এই রোমান্টিক মিলন এবং বিবাহের পরবর্তী মুহূর্তগুলো ছিল অত্যন্ত স্নিগ্ধ ও প্রেমময়।

তবে সুখের এই আবহের মাঝেই ঘনিয়ে আসছিল বিপদের কালো মেঘ। আর্যমানের বাবার রেখে যাওয়া কিছু গোপন চিঠি থেকে আহানা উদ্ধার করেন এক বিস্ময়কর রহস্য। অদৃশ্য কালিতে লেখা সেই চিঠিতে পূর্ণিমার আলো পড়তেই বেরিয়ে আসে ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মাঝে লুকিয়ে থাকা এক গোপন মন্দিরের ম্যাপ, যেখানে রক্ষিত আছে নাগমণি। একই সাথে সেখানে সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল যে, চেঙ্গিস্থানিরা হিন্দুস্তানের ওপর আক্রমণ করতে তৈরি হচ্ছে এবং তারা ‘ড্রাগন’ নামক এক প্রাণঘাতী শক্তির জন্ম দিয়েছে, যা নাগ-নাগিনদের পরম শত্রু।

এপিসোডের সমাপ্তি ঘটে এক ভয়ঙ্কর দৃশ্যের মাধ্যমে। আর্যমানের ভালোবাসায় প্রত্যাখ্যাত হয়ে রাধিকা নিজের নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে ফেলেন এবং এক বিধ্বংসী ড্রাগনে রূপান্তরিত হন। তার মুখ থেকে নির্গত আগুনে চারপাশ ছাই হয়ে যাচ্ছিল। যেন গেম অফ থ্রোনসের সেই ‘ড্রেকারিস’ মুহূর্তের পুনরাবৃত্তি! রাধিকার এই প্রতিহিংসা এখন আহানার সুখের সংসারে কতটা আগুন ধরায়, সেটাই দেখার বিষয়। পরবর্তী এপিসোডে আহানা বনাম ড্রাগন রাধিকার এই মহাযুদ্ধের অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে আপামর দর্শক। যারা অলৌকিক ড্রামা পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘নাগিন ৭’-এর এই সিজনটি সত্যিই এক মাস্টারপিস হয়ে উঠছে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি