ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী–এর স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি ফেসবুক পোস্ট। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে ইকরার মৃত্যু, তাদের পারিবারিক সম্পর্ক এবং অতীতের নানা ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক কিছু দাবি তুলেছেন এই অভিনেতা। সেই পোস্ট ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে ইকরার অকাল মৃত্যু এবং এর পেছনের নানা প্রশ্ন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে আলভী দাবি করেন, তাদের বাসার ড্রয়িং ও ডাইনিং রুমে স্থাপন করা একটি সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ ছিল একমাত্র ইকরার মোবাইল ফোনে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ রাতে ইকরার কয়েকজন বন্ধু বাসায় এসেছিলেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। ওই সময় তারা সিগারেট, গাঁজা ও মদ্যপান করেন বলেও দাবি করেন তিনি। আলভীর মতে, এসব ঘটনার কিছু অংশ সিসিটিভি ফুটেজে থাকার কথা এবং সেগুলো যেন কোনোভাবেই মুছে ফেলা বা নষ্ট না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
পোস্টে ইকরার মৃত্যুর আগের দিন ঘুমের ওষুধ আনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আলভী। তার দাবি, ইকরা নিজের সহকারীকে দিয়ে ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন। এ বিষয়টি সিসিটিভির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ইকরার মোবাইল ফোনটি বর্তমানে পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান আলভী। সেই পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা যাবে কে ইকরার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করেছে কিংবা কোনো কথোপকথন মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে কি না এমন প্রত্যাশাও প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের বিষয়েও তিনি কিছু আশঙ্কা ও প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, মৃত্যুর আগের রাতে মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণের বিষয়টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ময়নাতদন্ত করার আগেই একটি প্রভাবশালী মহল এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
স্ট্যাটাসে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে স্ত্রীর অতীত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা। আলভীর দাবি, ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করার পর ইকরার পরিবার তাকে না জানিয়েই অন্যত্র তার বিয়ে দিয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় আগের সম্পর্ক থাকা অবস্থাতেই ওই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন ইকরা এবং বাসরও করেছিলেন। পরে বিষয়টি ভুল বুঝতে পেরে ইকরা তার কাছে ফিরে আসেন এবং তিনি তাকে ক্ষমা করে আবার মেনে নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন আলভী।
দীর্ঘ ওই স্ট্যাটাসের শেষাংশে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওপর মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের ক্ষোভ এবং কিছু সহকর্মীর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে সাধারণ মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও সব প্রমাণ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
আলভীর এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ইকরার মৃত্যু নিয়ে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে অনেকে।