সিলেট: সিলেটে বাসিয়া নদী খনন করতে গিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দুলাভাইকে কথা বলতে না দিলে তো দুলাভাই যাবে গিয়া, যাই আমি— কথা বলবো না যাবো?’ এ সময় উপস্থিত হাজারো জনতার চিৎকার—দুলাভাই যাইও না, দুলাভাই যাইও না! পুরো মঞ্চে হাসির রোল পড়ে যায়।
নদী খনন শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানকালে স্থানীয়রা ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকলে সেখানে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। এসময় স্লোগানের জবাবে তিনি বলেন, ‘কথা বলতে চুপ করতে হবে। আমি কথা বলি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে শুনতে হবে কথা।’
বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালটি খনন করেছিলেন। পরবর্তীতে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৮০ হাজার এবং পরোক্ষভাবে দেড় লাখ কৃষক উপকৃত হবেন। এতে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে। শুধু খাল খনন নয়, খালের দুই পাশে ফলের গাছ লাগানো হবে যাতে এলাকার মানুষ ফল খেতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। শুধু বাসিয়া নয়, দেশের সকল খাল পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রদান কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন পর ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই এই দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক। ১২ তারিখে দেশের মানুষ এমন একটি সরকার নির্বাচিত করেছে, যে সরকার মানুষের কাছে জবাবদিহি করবে।
এর আগে, সকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং সুরমা নদীর তীরে বন্যা প্রতিরোধী ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করবেন। বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় যোগ দেবেন। দিনের সফর শেষে সন্ধ্যা ৭টায় বিমানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।