ব্রাজিলের সামনে ছিল রেকর্ড বড় করার সুযোগ। আর নরওয়ের সামনে ছিল ইতিহাস বিস্তৃত করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াল নরওয়ে। এবারের বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশটির জন্য পুরোনো দুঃস্বপ্নই ফিরল। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল নরওয়ে।
এর মধ্যে দিয়ে নরওয়ের গড়া হয়ে গেল ইতিহাসও। এর আগে দেশটি কখনো বিশ্বকাপের শেষ ষোলর চৌকাঠ পেরোতে পারেনি। এবার সেই আক্ষেপটা ঘুচল তাদের। সঙ্গে একটা রেকর্ডও অক্ষত থাকল তাদের। এতদিন নরওয়ের বিপক্ষে কখনো জিততে পারেনি ব্রাজিল। আজকের হারের পর সেই রেকর্ড আরও দীর্ঘ হলো।
ম্যাচের প্রথম দিকেই আসলে বোঝা যায়, কার জন্য কেমন যাবে আজকের দিন। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রথম থেকে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে পাত্তাই দিচ্ছিল না নরওয়ে। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই যেন ব্রাজিলকে তাদের ঝলক দেখিয়েছিল। বল জালে জড়িয়ে দিয়েছিলেন বের্গা। তবে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। পেনাল্টি নিতে আসেন ব্রুনো গিমারেস। কিন্তু তার শট ডান দিকে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যান্ড। কিছুক্ষণ পর দৃশ্যপটে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার কোণাকুণি শটও দারুণভাবে রুখে দেন নাইল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষদিকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিও একটি সুযোগ নষ্ট করেন। কাসেমিরোর বাড়ানো লম্বা বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি তিনি। ফলাফলা প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন এনদ্রিক। নেমেই তিনি একটি বড় সুযোগ পান। গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি বল জালে জড়াতে পারেননি। বল চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস, আর দ্বিতীয়ার্ধে এই মিস… এই দুই মিসের খেসারতই দিতে হয় সেলেসাওদের।
৮০ মিনিটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। আন্দ্রেয়াস শেলডারুপের ক্রস থেকে মাথা ছুঁয়ে গোল করেন আর্লিং হালান্ড। এরপর নিজেদের বক্সের বাইরে মার্টিন ওডেগার্ডকে ফাউল করে বসেন নেইমার। এই ফাউলের জন্য তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। শেষ দশ মিনিটে ফের গোল করেন হালান্ড। বক্সের বাইরে থেকে তার শট আলিসন বেকারের হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে স্কোরলাইন গিয়ে দাঁড়ায় ২-০।
তবে ম্যাচের একদম শেষদিকে একটি পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। বক্সের ভেতর কাসেমিরোকে ফাউল করেন নরওয়ের খেলোয়াড় অস্টিগার্ড। এই পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১। এর মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের ৮০তম গোলটি করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয় সেলেসাওদের।