বিশ্বকাপে ফিরেছে ৫২ বছর পর। প্রথম ম্যাচেই বিশ্বমঞ্চে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পর্তুগাল। প্রতিপক্ষের স্কোয়াডে আছে তারকা, অভিজ্ঞতাও বিস্তর, আর বল দখলের ক্ষমতা তো আছেই। পর্তুগাল নামক দেশটির এত কিছু থাকার পরও শৃঙ্খলিত রক্ষণ, শারীরিক শক্তি এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ সমতায় খেলা শেষ করল ডিআর কঙ্গো। আর এর মাধ্যমে বুঝিয়ে দিল তারা লম্বা রেসের শক্তি নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে।
পর্তুগালের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। কথায় আছে আক্রমণে ধার না থাকলে বিশ্বকাপে শুধু নাম দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। পর্তুগালের জন্যও আজ এ কথাই প্রযোজ্য। আর রোনালদোর জন্য রাতটি আরও হতাশার। কারণ, ষষ্ঠ বিশ্বকাপের শুরুতেই গোলের খুব কাছে গিয়েও ফিরলেন শূন্য হাতে।
আজকের ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখল মধ্য আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো। টেক্সাসের হিউস্টনে শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়ল তারা। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপিয়ান পরাশক্তির বিপক্ষে মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নিল দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় পর্তুগাল। ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেতোর বাম দিক থেকে ভাসানো নিখুঁত ক্রসে জোয়াও নেভেস হেড করে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে ডিআর কঙ্গো।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কর্নার থেকে ডান দিক দিয়ে আসা বল বার পোস্টে পেয়ে শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন উইসা। সেই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় ডিআর কঙ্গো। একই সঙ্গে ১৯৭৪ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় ফেরে দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করেছিলেন জোয়াও ক্যানসেলো। তবে সঙ্গে সঙ্গেই সহকারী রেফারির পতাকা উঠে যায়। তিনি পতাকা তুলে জানান দেন, অফসাইড ছিল। ফলে ফ্রি কিক। এরপর ৬৮তম মিনিটে ম্যাচে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট গোলের সুযোগ পান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়।
শেষ দিকে পর্তুগাল একের পর এক আক্রমণ চালালেও ডিআর কঙ্গোর সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বারবার ব্যর্থ হয়। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারেননি রোনালদোরা। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।
এদিকে এদিন আরেকটি ইতিহাসও গড়েন রোনালদো। লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েন তিনি। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপেই মাঠে নামলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। তবে রেকর্ড গড়া ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি।