প্রথমার্ধে ৩-১, দ্বিতীয়ার্ধ শেষে ৭-১ ব্যবধান। এবারের বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। জার্মানির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বিশ্বকাপের নবাগত কুরাসাও। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধের ৬ মিনিটে ফেলিক্স এনমেচা, ৩৮ মিনিটে ডিফেন্ডার নিকো শ্লটার, প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে ফরোয়ার্ড কাই হাইভার্টজ, ৪৭ মিনিটে জামাল মুসিয়ালা, ৬৮ মিনিটে লেফট ব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন, ৭৮ মিনিটে ডেনিজ উনদাভ, ৮৮ মিনিটে হাভার্টজ গোল করেন। কুরাসাওয়ের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন লিভানো কমেনেনসিয়া। ম্যাচের ২১ মিনিটে সমতা পেয়েছিল নবাগতরা।
প্রথম থেকে আক্রমণের ঢেউ তোলে জার্মানি। ৬ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায়। ফ্লোরিয়ান উইর্টজের একটি চমৎকার মাপা পাস থেকে ফেলিক্স এনমেচা বল জালে জাড়ান। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে ঢেউয়ের মতো আক্রমণ করতে থাকেন জামাল মুসিয়ালারা। এই বিশ্বকাপে অভিষিক্ত কুরাসাও নাম লেখায় গোল করার তালিকায়। ম্যাচের ২১ মিনিটে নুয়ারকে ফাঁকি দিয়ে বল জার্মানির নিশানায় পাঠায় দলটি। বক্সের ভেতর থেকে রাইট-ব্যাক লিভানো কমেনেনসিয়ার বাঁ পায়ের শট থামাতে ব্যর্থ হন জার্মানি গোলরক্ষক। সমতায় ফেরাতেই খুশি ছিল দলটি। গ্যালারিতে উৎসবে মাতোয়ারা ছিলেন কুরাসাও সমর্থকরা।
আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক থেকে কুরাসাও জার্মানির পেছনে। সেই দলের কাছে গোল খেয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, শুনতে কানে বাজে। কিন্তু বাস্তবতা হলো পুঁচকে কুরাসাওয়ের কাছে গোল হজম করেন জার্মান গোলরক্ষক। এই একটি গোল হজম করা ছাড়া জার্মানির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি কুরাসাও।
বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানির ব্যবধান বাড়াতে ১৭ মিনিট লেগেছে। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে লাফিয়ে হেডে গোল করেন জার্মানির ডিফেন্ডার নিকো শ্লটার। ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে আক্রমণের ধার বাড়ায় দলটি। বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি পায় জার্মানি। যোগ করা সময়ে কুরাসাওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা। পেনাল্টি থেকে গোল তিনে উন্নীত করেন জার্মানি ফরোয়ার্ড কাই হাইভার্টজ। ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি।
প্রথমার্ধে বলতে গেলে একপেশে খেলেছে জার্মানি। ৭১ শতাংশ বলের দখলে রেখেছে তারা। ১৬ বার প্রতিপক্ষের দুর্গে হানা দিয়েছে। নিশানায় শট নিয়েছে পাঁচটি। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে চারটি শট। মুহুর্মুহু আক্রমণে কুঁকড়ে গিয়েছিল কুরাসাও খেলোয়াড়রা। আবার বিরতি থেকে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ফেরে জার্মানি। গোলের বন্যা বয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে স্রোতের মতো আক্রমণ হানে। ৪৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। ইয়োশুয়া কিমিখের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিং দেন তিনি। ৪-১ গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি।
৬৮ মিনিটে ব্যবধান ৫-১ করেন লেফট ব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। জার্মানির গোলের তোড়ে বানের জলের মতো ভেসে যায় কুরাসাও। জার্মানির পক্ষে ৬ নম্বর গোলটি করেন ডেনিজ উনদাভ। ৭৮ মিনিটে ব্যবধান হয় ৬-১। এরপর শেষ দিকে হ্যাভার্টজের দ্বিতীয় গোল। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭-১। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলের তালিকায় ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে যায় জার্মানি।