দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ঢাকায় পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে শুক্রবার বিকেলে সফরকারী দলের অধিকাংশ সদস্য রাজধানীতে এসে পৌঁছান। দলের বাকি সদস্যদেরও রাতের মধ্যে ঢাকায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
আগামী ৯ জুন মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুই দলের লড়াই। সিরিজের তিনটি ওয়ানডেই অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরে। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দল যাবে চট্টগ্রামে।
এই সফর অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০১১ সালের পর এবারই প্রথম বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সর্বশেষ ২০১১ সালে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফর করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই সিরিজে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল তারা।
তবে বাংলাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ সফরের স্মৃতি সুখকর নয়। ২০২১ সালে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজ জয় এখনো দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশ সফরের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে সেই হতাশা কাটিয়ে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশে পা রেখেছে দলটি।
যদিও এবারের সফরে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে নেই দলের দুই প্রধান পেসার মিচেল স্টার্ক ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে ব্যাটিং বিভাগে বড় শক্তি পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আইপিএলের ব্যস্ততার কারণে পাকিস্তান সিরিজে অনুপস্থিত থাকা বিধ্বংসী ওপেনার ট্রাভিস হেড বাংলাদেশ সিরিজে দলে ফিরেছেন। তার উপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে, ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে দারুণ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগবে নিশ্চয়।