ঢাকা: আসছে ১১ জুন পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসরে। সেই হিসাবে আর মাত্র বাকি ২৮ দিন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ব ফুটবলের এই জমকালো আসরের খেলা দেখতে পারবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) খেলা দেখালেও এবার তারাও নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। কারণ, এখনো সম্প্রচার স্বত্ত্ব কিনতে পারেনি বিটিভি।
বিটিভি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ‘প্যাকেজ নীতিমালার’ (যারা সম্প্রচার স্বত্ব পেত, তারা বিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচার করত) আওতায় কোনো খরচ ছাড়াই বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল বিটিভি। তবে ২০২২ সালে এই নীতিমালা বাতিল হয়ে যায়। ফলে ওই বছর বিশ্বকাপের আগে শেষ মুহূর্তে সরকার ‘বিশেষ বাজেটে’ ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলে সম্প্রচার স্বত্ব কেনে বিটিভি।
এ ছাড়া ২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখিয়েছিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভি। এ বছর বিদেশি চ্যানেল থেকে অনুমোদন নিয়ে অন্য কোনো দেশ খেলা দেখাতে পারবে না। নিয়ম পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় স্ব স্ব দেশকে স্বত্ব কিনতে হচ্ছে। এবার সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কেউই এখনো সেই স্বত্ত্ব কেনেনি। ফলে এবারের বিশ্বকাপ খেলা দেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশে এবার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড’। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকে স্বত্ব কিনে খেলা সম্প্রচার করতে হবে।
বিটিভি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানটি বিটিভির কাছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা চেয়েছে, যা করসহ ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি দাঁড়াবে। শর্তানুযায়ী ৫০ শতাংশ টাকা ১০ মের মধ্যে এবং বাকিটা ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই প্যাকেজের আওতায় উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানসহ মোট ১০৪টি ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার ও হাইলাইটস দেখানোর সুযোগ রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাপুরের স্প্রিংবক বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির জন্য প্রথমে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। মন্ত্রণালয় তাদের প্রস্তাব বিটিভির কাছে পাঠায়। গত এপ্রিলে বিটিভি স্প্রিংবকের কাছে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য জানতে চাইলে ১৫০ কোটি টাকার কথা জানায়। টাকা বেশি মনে হওয়ায় বিটিভি কর্তৃপক্ষ ফিফাকে জানায় বিষয়টি। তবে দুই দফা মেইল করা হলেও ফিফা এখনো কোনো উত্তর দেয়নি।
তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ বুধবার খেলা দেখানোর স্বত্ত্ব কেনা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক চলছে। সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে। সরকার যদি টাকা বরাদ্দ দেয় তাহলে শেষ মুহূর্তে স্বত্ত্ব কেনা সম্ভব হবে। আর যদি না দেয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষ এবার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হবে।