Friday 29 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ সরকারের দৃশ্যমান পদক্ষেপ

গোলাম সামদানী হেড অব নিউজ
২৯ মে ২০২৬ ১৮:২৭ | আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ২২:০৪

ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছর পর ‘জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’ সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মুছে যাওয়ার আগেই সরকারের দেয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান, খাল-নদী খনন, পাঁচ কোটি বৃক্ষ রোপণ, দেড় বছরে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে দেশের আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমার সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়, আপসহীন ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ করেছে। অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার এখন ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দিনরাত নজরদারিতে রাখছে। অন্যদিকে সরকারের আরও কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অথচ সরকারের ক্ষেত্রে কোনো কোনো সময় প্রতিশ্রুতি, রাজনীতিকদের জন্য বা রাজনৈতিক দলের জন্য বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে। ফলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতার বিষয় আছে। ভোটের আগে তারেক রহমান বিভিন্ন নির্বাচনি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসবের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান, খাল-নদী খনন করা। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দেড় বছরে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান এবং নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল স্থাপনের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফলে সরকারের প্রথম ১০০ দিন জনগণের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিভিন্ন জায়গায় মব সৃষ্টি করে হত্যা, বা হত্যার পরিবেশ সৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও দলীয় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজী সরকারকে কিছুটা হলেও বিব্রত করেছে। তবে এসবের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় সরকারের আন্তরিকতারা পরিচয় বহন করছে।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভূমিধস বিজয় অর্জন করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। ইতিমধ্যে বিএনপি সরকার গঠনের ‘১০০ দিন পূর্তি’ হয়েছে ঈদুল আযহার আগের দিন অর্থাৎ গেল ২৭ মে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সাধারণ মানুষেকে আশান্বিত করেছে। এছাড়াও সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের প্রাণবন্ত আলোচনা ও সমালোচনা সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

প্রান্তিক জনগণের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রধানদের জন্য সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম চালু করেছে। এছাড়াও জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল করতে নানা পদক্ষেপ

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে যা সরকারের প্রথম কেবিনেট বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সম্ভাবনা তৈরি করতে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের জন্য সরকার চীনের সহায়তায় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে দেশের প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণেই ভূমিকা রাখবে না; বরং জলাধার সৃষ্টি ও পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জনগণের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল এবং গণমাধ্যমকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। বিপরীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশ এবং সাংবাদিকদের জন্য সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই নজিরবিহীন স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ ভুল তথ্য দিয়ে অপ্রচার চালানো আর সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা এক জিনিস নয়।

শান্তিপূর্ণ রমজান ও দুইটি ঈদ উদযাপন

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে পবিত্র রমযান মাস এবং দুইটি ঈদ উদযাপিত হয়েছে। পবিত্র রমযানে দ্রব্যমূল্যে অনেকটাই ক্রেতার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল। একইসঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময়ে ছোটখাটো কিছু বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া অনেকটা নির্বিঘ্নে ঢাকা ছেড়েছেন কয়েক কোটি মানুষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। একইসঙ্গে সরকারও দেশব্যাপী শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং নগদ অর্থছাড়ের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে করে শ্রমিক অসন্তোষ বা আন্দোলনের কারণে অতীতে যে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পরিস্থিতি তৈরি হতো, চলমান উদ্যোগের ফলে তা সফলভাবে এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফলে শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পেয়েছেন।

কোরবানির হাট ও গবাদিপশু চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থা

এবার কোরবানিকে কেন্দ্র করে গবাদিপশু চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত গবাদিপশু খাতের বিকাশ ও বিক্রয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সে সঙ্গে কোরবানির পশুর বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হয়েছে এবং চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সঠিক সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের ফলে এবার সাধারণ হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ব্যাপকভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে। অন্যদিকে কোরবানির হাটে বড় ধরনের কোন ছিনতাই কিংবা জাল টাকা আদান প্রদানের মতো কোন ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া যাযনি।

শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় দ্রুত আসামী গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ তার বাসায় গিয়ে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনি সোহেলকে গ্রেফতারের করে মামলার চার্জসিট দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিপীড়িত পরিবারের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, যা মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আরও একটি উল্লেযোগ্য উদাহরণ হলো- মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে আদালতের মৃত্যুদণ্ড প্রদান। মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণা দেশের বিচারব্যবস্থায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া এক দশক পর তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পথ আরও সুগম হয়েছে। একইভাবে শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিকে ভারতে দ্রুত শনাক্ত করা হয়েছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের এসব পদক্ষেপ জনমতে কিছুটা হলে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের কাছে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

এখন আর ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আসতে হচ্ছে না, বরং প্রধানমন্ত্রীই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন। তিনি মানুষের কথা শুনছেন, দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, এবং সাহস ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পাসপোর্টে আবারও যুক্ত করা হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’

বাংলাদেশি পাসপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পাসপোর্টে আবারও যুক্ত করা হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’। যা বিগত সময়ে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে বিএনপি সরকারের ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং গাজাবাসীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ পেয়েছে।

এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দ

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অর্থনীতির দৃঢ় ও সক্ষম অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩টি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রবাসী কার্ড চালু

প্রবাসীদের কল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সেবার আওতায় আনতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং রফতানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে।

৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়াও রান্নার কষ্ট লাঘবে বিশেষ ভর্তুকিসহ ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী জনসম্পৃক্ততাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। ভিভিআইপি প্রটোকল ছাড়া প্রধানমন্ত্রী চলাচল করছেন। এতে করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেছে। প্রটোকল ভেঙ্গে চলাচলের পথে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলা এবং তাদের সমস্যার কথা শুনে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া প্রধানমন্ত্রীকে এক অনান্য উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছে।

তিনি প্রটোকলের গণ্ডি ভেঙে পথে বাস থামিয়ে শিশুদের আবদার পূরণ করেছেন, তাদের কথা শুনেছেন এবং স্নেহভরে তাদের কাছ থেকে ভালোবাসার উপহার গ্রহণ করেছেন। একইভাবে কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের সঙ্গে একজন সাধারণ মানুষের মতো মিশে গিয়েছেন।

জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত করা

জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত প্রথম অধিবেশনটি ছিল দেশের সংসদীয় ইতিহাসে একটি মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশের মানুষ একটি বহুমাত্রিক, বৈচিত্র্যময় ও সত্যিকার অর্থে কার্যকর সংসদ প্রত্যক্ষ করেছে। ২৫ কার্যদিবসের প্রাণবন্ত এই অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ন। এই সংসদে অত্যন্ত স্বল্প সময়ে রেকর্ডসংখ্যক ৯৪টি বিল পাস হয়েছে এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো দ্রুততার সঙ্গে গঠন করা হয়েছে। সময়ের বিবেচনায় এটি এক অবিস্মরণীয় অর্জন। সংসদে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন ফ্লোর ক্রসিং না করে সাধারণ আসনের তৃতীয় সারিতে বসে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা সংসদীয় রীতিনীতির প্রতি যে বিরল সম্মান ও শৃঙ্খলার প্রদর্শন করেছেন, তা সরকারি ও বিরোধী দলীয় সকল সংসদ সদস্যকে গভীরভাবে বিমোহিত করেছে। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য সরাসরি অধিবেশন দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সংসদের দর্শনার্থী গ্যালারিগুলো এখন দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে এবং সংসদ ভবনের মূল প্রবেশপথটি উৎসর্গ করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে।

দেশের আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পদক্ষেপ

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে দেশের আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমার সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়, আপসহীন ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ করেছে। অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার এখন ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দিনরাত নজরদারিতে রাখছে। এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আহরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ও মাইন ডিটেক্টর স্থাপনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির শক্ত ও স্বার্বভৌম অবস্থান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিরই বাস্তব প্রতিফলন।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক মেগাসিটিতে রূপান্তর করতে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ঢাকা’ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২৫০টি পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মেট্রোরেলের নিচের অংশকে সবুজায়নের মাধ্যমে শহরকে শীতল ও বাসযোগ্য করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যার জন্য নার্সারিতে চারা উৎপাদন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেট্রোরেল ও ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জ্বালানী সংকট মোকাবেলায় কার‌্যকর পদক্ষেপ

বিশ্বজুড়ে চলমান চরম জ্বালানি সংকটের মধ্যেও হরমুজ প্রণালি হয়ে তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে বাংলাদেশে পৌঁছানো এবং সামগ্রিকভাবে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের কার্যকর ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে কয়েক হাজার বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।

স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের নানা সুযোগ সুবিধা

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশের প্রাথমিক পর্যায় থেকে ধারাবাহিক এবং পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস, জুতা এবং পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের কার্যক্রম সফল করতে একটি নতুন মডেল তৈরি করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে (পিপিপি) এর বিতরণ নিয়ে জুলাই মাসেই এই কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্প বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলার একাধিক স্কুলে একযোগে শুরু করা হবে। এছাড়াও অনার্স পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্রি ওয়াই-ফাই ও স্মার্ট ক্লাসরুম সম্প্রসারণ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল চালু এবং ভর্তি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে নীতিগত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

ক্রীড়াবিদদের ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সম্মান দিয়ে সরকার ‘ক্রীড়া কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আওতায় বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াবিদকে ইতোমধ্যেই ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ আটটি খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়ার মাধ্যমে লক্ষাধিক খেলোয়াড় এতে নিবন্ধন করেছেন। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

লেখক: হেড অব নিউজ, সারাবাংলা ডটনেট

বিজ্ঞাপন

আরো

গোলাম সামদানী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর