Saturday 18 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পাহাড়ে এবার ‘হচ্ছে না’ কঠিন চীবর দানোৎসব

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ অক্টোবর ২০২৪ ২২:০৬ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:৪৬

রাঙ্গামাটিতে কঠিন চীবর দানোৎসব। সারাবাংলা ফাইল ছবি

রাঙ্গামাটি: পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জের ধরে এ বছর রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দানোৎসব উদ্‌যাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত ভিক্ষু সংঘ। বৌদ্ধ ধর্মমতে এই দান দানোত্তম বা সর্বশ্রেষ্ঠ দান হিসেবে পরিচিত।

রোববার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা শহরের মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের।

কঠিন চীবর দানোৎসব হবে না পাহাড়ের অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধ বিহার রাজবন বিহারেও। বনভান্তে শিষ্য সংঘের সহসভাপতি সৌরজগৎ মহাথের বলেন, আমি রাজবন বিহারের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে গিয়েছি। এ বছর রাজবন বিহারের যতগুলো শাখা বনবিহার আছে, সেগুলোতেও চীবর দান অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকাল সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কঠিন চীবর দানোৎসব উদ্‌যাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ডেকেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রদ্ধালংকার মহাথের লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, ‘গত ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতেসহ চারজন ব্যক্তি নিহত হন। হামলায় বিভিন্ন মন্দির, বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর ও দানবাক্স লুট করা হয়।’

শ্রদ্ধালংকার আরও অভিযোগ করেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত যতগুলো সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে, তার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি। সরকার লোক দেখানো তদন্ত কমিটি করে, যা আলোর মুখ দেখে না। এ ধরনের লোক দেখানো তদন্ত কমিটি করে ঘটনাগুলোকে বারবার ধাপাচাপা দেওয়া হয়।’

কঠিন চীবর দান আয়োজন না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের প্রতি কোনো আস্থা না থাকার পাশাপাশি বৌদ্ধ সমাজ ও ভিক্ষুসংঘ উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। এমন অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজ ও ভিক্ষু সংঘ আসন্ন পবিত্র কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে কোনো উৎসাহ বোধ করছে না। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দায়ক-দায়িকা ও ভিক্ষু সংঘের মধ্যে আলোচনা করে চলতি বছরে কঠিন চীবর অনুষ্ঠান না করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বনভান্তে শিষ্য সংঘের সহসভাপতি সৌরজগৎ মহাথের, পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদ বান্দরবানের সাধারণ সম্পাদক তেজপ্রিয় মহাথের, কাপ্তাই চিৎমরম রাজনিকায় মার্গের সহসভাপতি জ্ঞানবংশ মহাথের, ত্রিরত্ন ভিক্ষু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আগ্গাশ্রী মহাথের, খাগড়াছড়ি শাসনা ভিক্ষু সংঘের সভাপতি সুমনা মহাথের, বৌদ্ধ শাসনা ভিক্ষু কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সুরিয়েন্টা মহাথের ও খাগড়াছড়ি ভিক্ষু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আগাসার থের।

সারাবাংলা/এসআর