Saturday 18 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শেকৃবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ছাত্রের কান ফাটাল ছাত্রলীগ

শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট
১৭ জুলাই ২০২৪ ০১:০৮ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪ ০২:১৫

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলনকারী একজনকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। মারধরের শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফেটে গেছে।

সোমবার (১৬ই জুলাই) ভোর ৪টায় শেকৃবির কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার সাকিব শেকৃবির ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাকে চার-পাঁচজন মিলে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১৭ ব্যাচের ইমন ও মুক্তার।

শিক্ষার্থীরা জানান, ১৭ ব্যাচের ইমন ও মুক্তার নজরুল হলের বি-ব্লকের সিঁড়ির সামনে প্রথম আঘাত করেন সাকিবকে। সিঁড়ির সামনে থেকে মারতে মারতে ওয়াশরুম পর্যন্ত নিয়ে যান। সেখানে গোসলখানাতেও তাকে মারধর করা হয় সারা শরীরে। তার চশমা ভেঙে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে ব্যাচমেট আদিলকে দিয়ে ভোর ৪টার দিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয় সাকিবকে।

সাকিব জানান, মারধরের পর ঠিকভাবে হাঁটতে পারছেন না তিনি। তার বাম কানের পর্দা ফেটে গেছে। অন্য কানেও তিনি শুনতে পাচ্ছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের কাউকেই মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমরা তার (সাকিব) সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সে বাসায় চলে গেছে। তোমরা যে তথ্য দিয়েছ, তা সম্ভবত সঠিক নয়।’

এদিকে ১৯ ব্যাচের কৃষি অর্থনীতি অনুষদের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা নাদিরুজ্জামান নিশাত জুনিয়র ২০ ব্যাচের কৃষি অনুষদে শিক্ষার্থী মেসবাউল আলমকে নবাব সিরাজ উদ দৌলা হলের সামনে থাপ্পড় মেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজনের উপস্থিতিতে হঠাৎ নিশাত চিৎকার ও ধমক দিয়ে তাকে থাপ্পড় দেন মেসবাউলকে এবং হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে কয়েকজন সিনিয়র এসে মেসবাউলকে রুমে যেতে বলেন।

ভুক্তভোগী মেসবাউল আলম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মাসুমের সঙ্গে কথা বলার পর ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন না করতে অনুরোধ করেন সাংবাদিকদের।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা নিশাত বলেন, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ছোটখাটো ধাক্কাধাক্কি। এর সঙ্গে কোটাবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কিত নয়।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মাসুম বলেন, আমি মেসবাউলের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দুজন একই এলাকার। কোনো শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী হল থেকে বহিষ্কার বা আর্থিক জরিমানা করা হবে।

সারাবাংলা/টিআর
বিজ্ঞাপন

আরো