Friday 17 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দেশজ গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সিসমিক জরিপের প্রস্তাব

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ জুন ২০২৪ ০৮:৩৫ | আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪ ০৯:০০

গ্যাস ব্লক অনুসন্ধান। প্রতীকী ছবি

ঢাকা: জ্বালানির চাহিদা পূরণে দেশজ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) মাধ্যমে দুটি ব্লকের অনুসন্ধানের জন্য জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের মাধ্যমে সরকারি ও নিজস্ব অর্থায়নে ৭ ও ৯ নম্বর ব্লক অনুসন্ধানে টুডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে কমিশনে প্রকল্প প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি সেই প্রস্তাব নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রস্তাবনায় কিছু পরিবর্তন ও সংযোজন-বিয়োজনের প্রস্তাব রেখে এটি অনুমোদনের পক্ষেই মত এসেছে কমিশন থেকে।

বিজ্ঞাপন

পিইসি সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সভায় তিনি বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ বছরের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আরএডিপিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তভুর্ক্ত।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শোয়েব সভায় প্রকল্পটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তি ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য দেশজ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। সেই কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাপেক্স ইন্টারন্যাশনাল সিসমিক সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের মাধ্যমে ‘অনুসন্ধান ব্লক ৭’-এ এক হাজার ৯৬০ লাইন কিলোমিটার এবং ‘অনুসন্ধান ব্লক ৯’-এ দুই হাজার ৫৪০ লাইন কিলোমিটারসহ মোট চার হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জরিপ চালাবে। জরিপের মাধ্যমে উপাত্ত সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, বিশ্লেষণ ও রিজার্ভ মূল্যায়ন শেষ করার জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় প্রকল্প এলাকা নির্বাচনের গুরুত্ব, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তিনটি সিসমিক সার্ভের পরিবর্তে প্রস্তাবিত দুটি সিসমিক সার্ভে শেষ করার বিষয়ে সভায় জানতে চাইলে বাপেক্সের এমডি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টের ইন্টিগ্রেটেড রিপোর্ট হিসেবে এবং পরামর্শকের প্রণয়ন করা কারিগরি রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী টুডি সিসমিক সার্ভে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ক্লোজ গ্রিড ও হাই রেজ্যুলেশন টুডি সিসমিক জরিপের মাধ্যমে ব্লক দুটিতে তেল বা গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যাবে।

বাপেক্সের এমডি মো. শোয়েব আরও বলেন, দেশে দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়নের ফলে এসব ব্লকে ভবিষ্যতে সিসমিক ডাটা আহরণ কঠিন হবে। এ অবস্থায় বসতিহীন অঞ্চলের ব্লকগুলোর সিসমিক ডাটা দ্রুত আহরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল আলম বলেন, সার্ভিস প্রোভাইডার অঙ্গের ব্যয় প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে প্রতি লাইন কিলোমিটার ব্যয় পাঁচ লাখ ৩৭ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সমজাতীয় চলমান প্রকল্প টুডি সিসমিক সার্ভে ওভার এক্সপ্লোরেশন ব্লক ১৫ ও ২২-এর আওতায় প্রতি লাইন কিলোমিটার বাবদ পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতির কারণে হালনাগাদ বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে এ খাতে ব্যয় যৌক্তিক করার তাগিদ দেন তিনি।

আলোচনা শেষে সার্ভিস প্রোভাইডার অঙ্গের অন্তর্ভুক্ত আইটেমগুলোর তুলনামূলক ব্যয় প্রাক্কলনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সমাপ্ত বা চলমান সমজাতীয় প্রকল্পের আইটেমগুলোর তুলনামূলক ব্যয় বিবরণী ডিপিপিতে সংযোজন এবং হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সার্ভিস প্রোভাইডার অঙ্গের নাম পুনর্নিরীক্ষা করে নির্ধারণসহ কারিগরি কমিটি যাচাই করে পরামর্শকদের সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট টিওআর ডিপিপিতে সংযোজন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গভিত্তিক প্রাক্কলিত ব্যয় যৌক্তিকভাবে কমানোর বিষয়ে সভায় সবাই একমত হন।

সারাবাংলা/জেজে/টিআর