চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘হোল্ড অন’ বলে তোপের মুখে পড়া এলাচ ব্যবসায়ী অমর কান্তি দাশ তিন মাসের ব্যবধানে আবার জরিমানার মুখে পড়েছেন। গত মার্চে প্রতি কেজি এলাচ আমদানি খরচের দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে জরিমানা গুণতে হয়েছিল অমরকে। এবার প্রতি কেজি এলাচে অন্তঃত তিন হাজার টাকা লাভ করতে গিয়ে তিনি জরিমানার মুখে পড়েছেন।
ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বুধবার (৫ জুন) নগরীর খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
অভিযানে এলাচ আমদানিকারক অমর কান্তি দাশের মালিকানাধীন পাইকারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এবি ট্রেডার্সকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেয়া অধিদফতরের সহকারি পরিচালক রানা দেবনাথ সারাবাংলাকে জানান, এলাচ আমদানির নথিপত্র যাচাই করে তারা দেখতে পান- আমদানির পর খাতুনগঞ্জে আড়ত পর্যন্ত পৌঁছতে প্রতি কেজিতে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৪৪ টাকা। ডলারের দাম ১২০ টাকা হিসেবে এবং এর সঙ্গে খালাস ও পরিবহন খরচ যুক্ত করে এ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ সেই এলাচ বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ৪ হাজার ৪৫০ টাকায়।

‘একই এলাচ খাতুনগঞ্জে সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি কেজি এক হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দাম বাড়তে বাড়তে সেটা মঙ্গলবার চার হাজার ৪৫০ টাকায় পৌঁছে। হঠাৎ করে গরম মশলার বাজারে অস্থিরতা তৈরির খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালাই। দেখা গেছে, আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের একটি চক্র বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে প্রতি কেজি এলাচে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন,’- বলেন রানা দেবনাথ।
এর আগে, গত ১০ মার্চ আমদানি করা এলাচ অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেয়ে এ বি ট্রেডার্সে অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত। সেখানে দেড় হাজার টাকায় আমদানি করা এলাচ প্রতিকেজি ২২০০ টাকা থেকে ৩১০০ টাকায় এলাচ বিক্রি হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বি ট্রেডার্সে অভিযান শুরুর পর প্রতিষ্ঠানটির মালিক অমর কান্তি দাশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য ‘হোল্ড অন’ শব্দ উল্লেখ করে অপেক্ষা করতে বলেন। ব্যবসায়ী অমরের বলার ভঙ্গিতে ক্ষুব্ধ হন ম্যাজিস্ট্রেট। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশের একটি ভিডিও ফুটেজ ওইদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে এ নিয়ে নানামুখী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।