যুক্তরাষ্ট্রের মেইন ইউনিভার্সিটিতে একটি বিশালাকার ত্রিমাত্রিক মুদ্রণযন্ত্র (থ্রিডি প্রিন্টার) উন্মোচন করা হয়েছে। এই যন্ত্র দিয়ে মুদ্রণ করা যাবে একটি গোটা বাড়ি বা ছোটখাটো কোনো সেতু।
ইউনিভার্সিটির তরফ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম পলিমার থ্রিডি প্রিন্টার তৈরিতে তাদের নিজেদের আগের রেকর্ডই তারা ভেঙেছে। নতুন প্রিন্টারটি আগের মেশিনের চেয়ে চারগুণ বড়।
নতুন এই প্রিন্টারের নাম দ্য ফ্যাক্টরি অফ দ্য ফিউচার ১.0 (এফওএফ ১.০)। এটি ৯৬ ফুট লম্বা বস্তু মুদ্রণ করতে পারে- যা প্রায় একটি নীল তিমির দৈর্ঘ্য।
তবে বড় প্রিন্টার দিয়ে বাড়ি বানানোর পক্ষে নন অনেকেই। যেমন, ব্রুনেল ইউনিভার্সিটির অ্যাডেটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং বিশেষজ্ঞ ড. ইউজিন পেই বলেছেন, বড় থ্রিডি প্রিন্টার যেমন —মেইনে যেটি উন্মোচিত হয়েছে— এমন প্রিন্টারে কেউ পুরো বাড়ি একসঙ্গে প্রিন্ট করবে না। বরং বাড়ির বিভিন্ন অংশ তৈরিতে এমন প্রিন্টার ব্যবহার করা যাবে।
তিনি বলেন, কোনো বাড়ি ছাপানোর জন্য নয়, এসব প্রিন্টার ঐতিহাসিক কোনো স্থাপনা বা বস্তু পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কখনও কখনও বাড়ির আলংকারিক অংশগুলো মুদ্রণ করতে এসব প্রিন্টার ব্যবহার করা যায়। অথবা কোনো বাড়ির কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করতেও ব্যবহার করা যাবে এই প্রিন্টার। তিনি বিবিসিকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের অংশ তৈরিতে এগুলো কাজে লাগতে পারে।
মেইন ইউনিভার্সিটি অবশ্য বলছে, তারা আশা করে, প্রিন্টারটি সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন, সেতু, নৌকা এবং বায়ু টারবাইন তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি প্রতি ঘন্টায় ২২৭ কেজি উপাদান মুদ্রণে সক্ষম।
যদিও থ্রিডি প্রিন্টার মূলত মুদ্রণ করে প্লাস্টিক। কিন্তু মেইন ইউনিভার্সিটি মুদ্রণের জন্য আরও টেকসই উপকরণ অন্তর্ভুক্ত করার উপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে পুনর্ব্যবহৃত পলিমারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে অঙ্গরাজ্যে রয়েছে বিশাল বনভূমি। করাতকলের অবশিষ্ট কাঠ বা কাঠের গুঁড়া প্রিন্টারে মুদ্রনের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে চায় মেইন ইউনিভার্সিটি।
এ বিষয়ে ড. পেই বলেন, নেতিবাচক দিক হলো, এ ধরনের উপকরণগুলো খুব একটা টেকসই নয়। কাঠ এত শক্তিশালী নয়, তবে তা প্লাস্টিকের চেয়ে ভালো। পরিবেশগত দিক থেকেও প্লাস্টিক থেকে কাঠ ভালো।

মেইন ইউনিভার্সিটির অ্যাডভান্সড স্ট্রাকচারস অ্যান্ড কম্পোজিটস সেন্টারের প্রধান হাবিব দাঘের জানান, এই থ্রিডি প্রিন্টার তৈরির প্রকল্পে আংশিক অর্থায়ন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মেইনের দৈত্যাকার প্রিন্টারটি সেন্সর, উচ্চ-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বড় বড় পণ্য তৈরিতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, এই প্রিন্টারের পূর্বসূরি প্রিন্টারটি প্রোটোটাইপ হিসেবে একটি বাংলো তৈরি করেছিল। আশা করা হচ্ছে, নতুন প্রিন্টারটি মেইনের আবাসন ঘাটতি মোকাবিলায় সাহায্য করবে।
মেইন ইউনিভার্সিটির প্রিন্টার দুটিতে উপাদান হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা সম্ভব। মেইন ইউনিভার্সিটি বলেছে, বাড়িঘর বা সেতুর মতো কিছু নির্মাণে দুটি প্রিন্টার একসঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে।
মেইন ইউনিভার্সিটির একটি থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে এই বাড়িটি তৈরি
উৎপাদন ব্যবস্থায় থ্রিডি প্রিন্টার একটি বিপ্লব আনবে বলে মনে করা হয়। মহাকাশ রকেট থেকে শুরু করে খেলনা পুতুল পর্যন্ত বিস্তৃত ক্ষেত্রে থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে এর একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে। অপরাধীরা অস্ত্র তৈরিতে থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করছে।

এই নৌকাটি তৈরি করা হয়েছে মেইন ইউনিভার্সিটির নতুন থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে
এ ধরণের প্রথম ঘটনাটি ঘটে যুক্তরাজ্যে । থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে সাব-মেশিনগান তৈরির জন্য দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২০২৩ সালে, বার্মিংহামের একজনকে থ্রিডি-প্রিন্টেড অ্যাসল্ট রাইফেল তৈরির দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।