চট্টগ্রাম ব্যুরো: চেক প্রতারণার মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাবার একদিন পরেই জামিন পেয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব শিল্পপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী উম্মে কুলসুমা মান্নান।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা তাদের জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার আবদুল মান্নান ও উম্মে কুলসুম চট্টগ্রামের চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ রাজিয়া সুলতানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত আবেদন নামঞ্জুর করায় তাদের কারাগারে যেতে হয়।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের কর্মকর্তা দীপেন দাশগুপ্ত সারাবাংলাকে বলেন, ‘যুগ্ম আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে দণ্ডিত দুই আসামির আইনজীবী আপিল করেন। আদালত আপিল মঞ্জুর করেছেন।’
চেক প্রতারণার অভিযোগে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি ছিলেন আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী। গত বছরের ১৯ অক্টোবর তাদের এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একই রায়ে আদালত তাদের ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৬৩৮ টাকা অর্থদণ্ডেরও আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন। আদালত তাদের ২৯ নভেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত তারিখে আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পন করে জরিমানার অর্ধেক টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা দেওয়ার শর্তে জামিন চেয়ে আপিল করেন। আদালত তাদের দুই মাসের জামিন মঞ্জুর করেন।
গত ২৯ জানুয়ারি তাদের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু তারা আপিল না করে মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে ফের জামিনের আবেদন করেছিলেন।
সানম্যান গ্রুপের কর্ণধার অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবদুল মান্নান নব্বই দশকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিন দফায় বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারিত হন ডাক্তার এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ২০০৪ সালে তিনি বিকল্প ধারা রাজনৈতিক দল গঠন করলে, মান্নানও তাতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালেও তিনি বিকল্প ধারা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।