Tuesday 14 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘মানচিত্রে হাত দেবেন আর বাঙালি বসে থাকবে, তা ভাবার কারণ নেই’

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭:১৯ | আপডেট: ৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:০৮

ঢাকা: দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের ৩০ লাখ শহিদের শক্তিমত্ত্বাকে বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের ৩০ লাখ শহিদের শক্তিমত্ত্বাকে বিবেচনায় রাখা উচিত। আমরা তাদের উত্তরসূরি যারা রক্ত দিয়ে দেশ রক্ষা শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। আমরা সেই বাংলাদেশ হতে চাই যেই বাংলাদেশ আগামী দিনে মানবিকতায়, বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ড. মশিউর রহমান বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ মুক্তির পথে যখন হাঁটতে চেয়েছিলেন। আমরা বহুদিন শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে শোষণের নিগঢ়ে ছিলাম। কৃষ্ণকায় শ্যামবর্ণের এই মানুষগুলো আত্মমর্যাদায় বলীয়ান হতে চেয়েছে। কখনোই অন্যের কাছে হাত পেতে আমরা স্বাবলম্বী হতে চাইনি। আমাদের সমাজ নির্মিত হয়েছে ঘামে-শ্রমে। এই অঞ্চলের মানুষের নির্ভরতা ছিল কৃষিতে। আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা কৃষিতে ভালো ভূমিকা রেখেছে। আমাদের উদ্বৃত্ত শ্রমিকদের শিল্প শ্রমিকে রূপান্তরিত করেছি। এটি কারো দয়ায় করা হয়নি, নিজেদের ঘামে-শ্রমে।

তিনি বলেন, এই পর্যন্ত আমাদের যতটুকু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে তা কারো দয়ায় নয়। বরং যখনই মাথা তুলে দাঁড়াতে চেয়েছি তখনই আমাদের পথ চলায় বাধা দিয়েছে। কিন্তু আমরা বলে দিতে চাই, আমাদের পূর্বসূরীরা শিখিয়েছেন দেশ বাঁচাতে কীভাবে বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে লড়তে হয়। গেরিলা যোদ্ধারা যুদ্ধ করে ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে এবং দুই লাখ মা-বোন নির্যাতন সয়ে যে মানচিত্র এনেছেন সেই মানচিত্রে আপনারা হাত দেবেন আর বাঙালি বসে থাকবে তা ভাবার কোনো কারণ নেই। এটি আফগানিস্তান, মিয়ানমার বা শ্রীলঙ্কা নয়। এটি বাংলাদেশ; আত্মশক্তিতে বলীয়ান এক ভিন্ন বাংলাদেশ।

ড. মশিউর আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন পশ্চিমাদের বাজার অর্থনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে সমাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আদর্শের নতুন এক অর্থনৈতিক ধারা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। যেই ধারাটি আজ বিশ্বে অনুকরণীয় মডেল হতো। কিন্তু পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে সেই আদর্শকে হত্যা করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে দেশের অমিত সম্ভাবনার অর্থনীতিকে। এরপর বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আমরা এগিয়েছি ঠিকই কিন্তু বুকে ব্যথা নিয়ে এগিয়েছি। এ দেশের সব গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে হয়েছে।

এডুকেশন, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (ইআরডিএফবি) আয়োজনে ‘উন্নয়ন ও নির্বাচন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মো. বদরুজ্জামান ভুঁইয়া।

ইআরডিএফবির সভাপতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী।

আলোচনা সভায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন বলেন, খাদ্যশস্য নিয়ে ম্যালথাসের তত্ত্বটি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ভুল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। জনসংখ্যা বেশি হলে মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে—ম্যালথাসের এই কথা এখানে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ কখনোই শিল্পভিত্তিক ছিলো না; সবসময়ই কৃষিভিত্তিক সমাজ ছিলো। একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো; আর এখন দুর্যোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। এটি কিন্তু খুব বেশি আগে হয়নি। ২০১০ সাল থেকে আমরা দুর্যোগ মোকাবেলায় এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতা অর্জনে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, আজকে দেশের যে দৃশ্যমান উন্নয়ন, সেগুলো অনেকেই দেখেন না কিংবা দেখেও স্বীকার করেন না। সত্যকে স্বীকার না করার একটি সমস্যা রয়েছে। উন্নয়নের জন্য শিক্ষা-বাসস্থান-খাদ্য-যোগাযোগসহ সম্পূরক কিছু বিষয়ের উন্নতির দরকার হয়। এগুলোর উন্নতি ঘটলেই একটি দেশের সত্যিকার উন্নয়ন সম্ভব হয়। এছাড়া, দক্ষ নেতৃত্ব, উন্নয়ন উপাদান ও উন্নয়নের জন্য কর্মীও প্রয়োজন। উন্নয়ন নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তারা বলে থাকেন যে, এই উপাদানগুলো একটি অন্যটির পরিপূরক। এগুলোর একটি কম থাকলে উন্নয়ন প্রক্রিয়া কাজ করে না। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উপাদানগুলোর প্রাপ্যতা কম থাকলেও দূরদর্শী নেতৃত্বের বলে তিনি উন্নয়ন করে গেছেন।

আলোচনাসভায় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁনসহ অনেকে।

সারাবাংলা/আরআইআর/এনইউ
বিজ্ঞাপন

আরো