ঢাকা: জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞ চালানো ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
একইসঙ্গে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের পাশাপাশি গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী সবার তালিকা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে এবং ওয়ান-ইলেভেনের বিতর্কিত সরকারের নীলনকশায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে পঙ্গু করার জন্য পিলখানা বিদ্রোহের নামে মেধাবী সেনা অফিসারদের হত্যা করে। ‘৭১, ’৯০ কিংবা সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী যখনই জনবান্ধব অবস্থান নিয়েছে, তখনই জনগণের জয় হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে পঙ্গু করার পাশাপাশি এদেশের ইসলামপ্রিয় আলেম-ওলামাদের ওপর শাপলা চত্বরে নির্মম-নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে পৈশাচিকভাবে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সেদিন উল্লাস করে বলা হয়েছিল, যেদিন আমাকে ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, সেদিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তাকে ওই বাড়ি থেকে বের করব।’
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছেন, তার মেরুদণ্ডের একটি হাড় বাঁকাভাবে জোড়া লেগেছে, কিন্তু তিনি কোনো প্রতিশোধ নিতে চান না এবং তিনি উদারভাবে দেশ চালাচ্ছেন।’
সংসদীয় বিতর্কের মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিচার নিষ্পত্তির প্রশ্নে আমাদের ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় এসে গুম-খুন চালাতে না পারে, সেজন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।’
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের অনেক আহত ও পঙ্গু যোদ্ধা সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি এবং এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যারা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে অনেক তরুণ বন্ধু বিপ্লবী কথাবার্তা বলেন, অথচ দীর্ঘ ১৮ মাস তারা সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। আহতদের ক্ষতিপূরণ বা কল্যাণের জন্য তারা সঠিক পরিকল্পনা নেননি। এমনকি আহতদের তালিকা নিয়েও নয়ছয় করা হয়েছে।’