চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম নগরীতে এক বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুজন সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য। ভোররাতের দিকে যখন সাধারণত লোকজন ঘুমিয়ে থাকে, তখন এরা বের হয়। কোন বাড়ি থেকে নামাজ পরার জন্য কিংবা অন্য কোনো কাজে লোকজন বের হচ্ছে, সেটা পর্যবেক্ষণ করে। দরজা খোলা পেলে সেই বাসায় ঢুকে চুরি করে।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ভোর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকবর শাহ থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার দু’জন হল- আব্দুল্লাহ লোকমান (২০) ও জাহিদুল ইসলাম জিসান (২২)। লোকমানের বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই এবং জিসানের বাড়ি ভোলায় হলেও তারা থাকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায়।
জানা গেছে, গত ২৫ নভেম্বর ভোরে নগরীর আকবর শাহ থানার পূর্ব ফিরোজ শাহ কলোনির বাসিন্দা মুশফিকুল ইসলামের বাসায় চুরি সংঘটিত হয়। ওই বাসা থেকে নগর ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা, সাড়ে ১২ লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৩টি মোবাইল সেট চুরির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়।
আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওয়ালী উদ্দিন আকবর সারাবাংলাকে বলেন, ‘মামলা তদন্তে নেমে আমরা চুরির সঙ্গে জড়িত দুজনকে শনাক্ত করি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান জেনে তাদের গ্রেফতার করি। তাদের কাছ থেকে চুরি করা ৬ ভরি ১১ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং ২টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে।’
‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, নগরীর আকবর শাহ, ডবলমুরিং, বায়েজিদসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং শহরতলীর উপজেলাগুলোতেও তারা চুরি করে। তারা ভোররাতের দিকে বের হয়ে আলাদাভাবে কাছাকাছি স্থানে ঘোরাঘুরি করে। এসময় অনেকে নামাজের জন্য বাসা থেকে বের হয়। অনেকে দোকান কিংবা কর্মস্থলে যাবার জন্য বের হয়। তখন বাড়ির মেইন গেট এবং বাসার দরজা খোলা পেলে একজন ঢুকে পড়ে। আরেকজন বাইরে পাহারা দেয়। সব মিলিয়ে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে চুরি সংঘটিত করে তারা দ্রুত চলে যায়।’
ওসি আরও জানান, নগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় জিসানের বিরুদ্ধে ৫টি এবং লোকমানের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আছে। ১২ দিন আগে চুরির মামলায় জেল খেটে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে ধরা পড়েছে লোকমান।