ঢাকা: সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে গোপালগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল সরকার। আড়াই বছরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু দুই বছর তো দূরের কথা, দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পটি ৯ বছরেও শেষ করা যায়নি। এই ৯ বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি ৭২ শতাংশ। ডেন্টাল কলেজটি স্থাপনে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জ শেখ লুৎফর রহমান ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্পে দেখা গেছে এই দশা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাস্তব অগ্রগতির চেয়ে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতির অবস্থা আরও বেশি খারাপ, মাত্র ৫৯ শতাংশ। এ পরিস্থিতি কাম্য নয় উল্লেখ করে পরিকল্পনা কমিশন দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার তাগাদা দিয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রেখে ৮৮ কোটি ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ে শেখ লুৎফর রহমান ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল প্রকল্পটির।
তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৮ সাল পর্যন্ত। এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বর, ২০২১ সালের ডিসেম্বর ও এ বছরের জুন পর্যন্তও মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও প্রকল্পের অগ্রগতি তিন-চতুর্থাংশই হয়নি।
এদিকে গণপূর্ত অধিদফতরের রেট শিডিউল পরিবর্তন ও বিভিন্ন খাতের খরচ বেড়েছে— এমন কারণ দেখিয়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ২০১৮ সালে করা হয় ১১২ কোটি ৮১ লাখ ৮২ হাজার টাকা। তাতেও কাজ হয়নি। এবারে রাজস্ব খাতের বিভিন্ন আইটেমের দাম বেড়ে যাওয়া, ক্রয় পরামর্শকের নতুন কোড অন্তর্ভুক্তি এবং ফার্নিচার ও বিভিন্ন যন্ত্রের দাম বেশি দেখিয়ে তা সমন্বয় করে প্রকল্পের নতুন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদও ধরা হয়েছে।
বর্ধিত মেয়াদ ও খরচের তথ্য তুলে ধরে ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এই সংশোধনী নিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম।
সভায় পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্প হাতে নেওয়ার ৯ বছর পার হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে না পারা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রতিনিধি জানান, ডেন্টাল কলেজের স্থান নির্বাচন নিয়ে জটিলতা থাকায় দেরিতে কাজ শুরু করার ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথভাবে অগ্রসর হয়নি।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, ডেন্টাল কলেজের সঙ্গে যুক্ত হাসপাতালের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগসহ জেনারেল ফার্মাকোলজি বিভাগের যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও শয্যা অন্তর্ভুক্তি এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের রেট শিডিউল পরিবর্তনের কারণে নির্মাণ ও অন্যান্য অঙ্গের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্প সংশোধন ও কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়াতে কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে। তিনি প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রমের দিকে লক্ষ্য রেখে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। তবে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিইসি সভায় মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, প্রকল্পটি ডেন্টাল শিক্ষার অবকাঠামো গড়ে তোলা, ডেন্টাল শিক্ষার চাহিদা মেটানো, বিশেষায়িত দন্ত্য চিকিৎসা সেবা দেওয়া এবং দন্ত্য চিকিৎসকসহ প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শেষ হওয়া জরুরি।