Tuesday 14 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মায়ের মামলায় আসামি বিএনপি, বিএনপি দায়ী করল আ.লীগ-পুলিশকে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:১৭

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। তবে বিএনপি দাবি করেছে, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ছিল বলেও অভিযোগ বিএনপির নেতাদের।

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন উত্তর জেলা বিএনপির নেতারা। এর আগে, জোরারগঞ্জ থানায় কিশোরের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, ‘৫ অক্টোবর রোডমার্চ সফল করতে বিএনপির এক সপ্তাহ ধরে সব জায়গায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের বাড়িতে একটি সভা আয়োজন করা হয়।’

বিজ্ঞাপন

‘প্রস্তুতি সভা শেষে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির কর্মীদের উপর হামলা চালায়। এরমধ্যে পাশের দোকানের এক কর্মচারী আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে সে মারা যায়। নিহত হওয়া কিশোর বিএনপি না আওয়ামী লীগ সেটা আমি বলছি না। কিন্তু সে বিএনপি পরিবারের সন্তান। তার বাবা মারা গেছেন। সে একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। এ কারণে আমরা বলছি, সে আমাদের তো নয়ই, ছাত্রলীগও করে না। তার কোনো ছাত্রত্ব নেই।’

উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বলেন, ‘যখন আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা হচ্ছিল তখন ওই ছেলেটা ভিডিও ধারণ করছিল। এটা দেখে আওয়ামী লীগের ছেলেরা তাকে প্রচন্ড মারধর করে। এরপর সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে আমরা শুনি সে মারা গেছে। হামলার ঘটনা যখন চলছে তখন আমি জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বারবার কল দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি।’

‘কিন্তু উনি আমার কল ধরেননি। উনি যদি তখন ওই ফোনটি ধরত এই ঘটনা নাও ঘটতে পারত। এই ছেলেটা হয়ত মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে যেতে পারত। উনি যদি তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করত, সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করত তাহলে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর সুযোগ আওয়ামী লীগ পেত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাত ৮টার দিকে পুলিশসহ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে এসেছে। পুলিশকে পেছনে রেখে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে হামলা করেছে। দুই হাজার চেয়ার ভাংচুর করেছে। ঘরের ভেতর অগ্নিসংযোগ করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উত্তর জেলার যুগ্ন আহবায়ক মো. ইউনুছ, সরওয়ার আলমগীর ও বেলায়েত হোসেন।

নিহত কিশোরের মায়ের মামলা

মিরসরাইয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেছে তার মা। যেখানে প্রধান আসামি করা হয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্ববায়ক ও মিরসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে।

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জোরারগঞ্জ থানায় নিহত কিশোর জাহিদ হোসেন রুমনের মা খালেদা আক্তার বাদি হয়ে মামলটি করেছেন।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হাসান সারাবাংলাকে বলেন, বিএনপি নেতা নুরুল আমিনসহ মামলায় মোট ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৬০/৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ইতোমধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যহত আছে।

এর আগে, শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ওসমানপুর ইউনিয়নে আগামী ৫ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিএনপি’র রোডমার্চ সফল করতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিনের বাড়িতে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি।

সভা শেষে বিএনপি কর্মীরা মিছিল করে বাজারে দিকে এলে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। এ সময় জাহিদ হোসেন রুমন নিহত হয়। ছাত্রলীগ নিহত কিশোরকে তাদের কর্মী বলে দাবি করছে।

সারাবাংলা/আইসি/ইআ