Friday 10 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চাঁদা না পেয়ে ৩ ভাইকে কুপিয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন বাহিনী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ নভেম্বর ২০২২ ২০:৫১

ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে চাঁদা না পেয়ে তিন ভাই ও তাদের কেয়ারটেকারকে কুপিয়ে জখম করেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল হক ইমনের লোকজন। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুড় ১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। আহত অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান রতন (৭০), নাসিম রহমান (৬৩), সেলিম রহমান (৫৭) ও কেয়ারটেকার ইউনুছ সরদার (৩৫)।

আহত সেলিমের দাবি- শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল হক ইমনের বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। হামলার নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় হাসুসহ অন্তত ২০-২৫ জন।

সেলিম রহমান জানান, তাদের বাসা পশ্চিম থানমন্ডির মধুবাজার এলাকায়। রায়েরবাজার বাড়ৈইখালী তাদের নিজেদের ৪৪ শতাংশ জমি আছে। সেখানে গরুর খামারের জন্য মাটি ভরাটের কাজ চলছিল। এর মধ্যে কয়েক দফা শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের লোকজন এসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত ছিল।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, চাঁদাবাজির ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় কয়েক দফা সাধারণ ডায়েরিও করা হয়। আজকে তারা তিন ভাই ও কেয়ারটেকারসহ বাড়ৈইখালীতে কাজ শেষ করে পায়ে হেটে মধুবাজারের বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় রায়েরবাজার মেরিস্টোপ ক্লিনিকের সামনে গেলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এতে তার মাথায় আঘাত লাগে দুই ভাই ও কেয়ারটেকারকে কিল ঘুষি মারে। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।

সেলিম জানান, তিনি জার্মানির নাগরিক, সেখানকার কাউন্সিলর। তিন সপ্তাহ যাবত দেশে এসেছেন। তার বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানও জার্মানির নাগরিক।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, তিন ভাইসহ চারজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সেলিমের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত আছে। বাকি তিনজনের জখম সামান্য। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন কারাগারে আছেন। কারাগারে থেকেই মোহাম্মদপুর ও আশেপাশের এলাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

১৯৯৮ সালে বনানী ট্রাম্পস ক্লাবে চিত্রনায়িকা দিতির স্বামী সোহেল চৌধুরী খুনের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ইমনকে গ্রেফতার করে। কয়েক মাস জেল খাটার পর তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে ভারতে চলে যান।

১৯৯৯ সালের ৩০ জুন কলকাতা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ২০০১ সালে জামিন পান। সে বছরের অক্টোবরে ইমন দেশে ফেরেন।

২০০৪ সালে র‍্যাবের ধাওয়া খেয়ে তিনি আবার কলকাতায় চলে যান। পরে ২০০৮ সালের ৭ মার্চ ইমনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয় কলকাতা পুলিশ। সেই থেকে কারাগারেই আছেন পুলিশের তালিকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন।

সারাবাংলা/এসএসআর/একে