Friday 10 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আইনজীবীকে মারধর: বেঞ্চ সহকারীসহ ৫ জন প্রত্যাহার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৭ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৩৫

চট্টগ্রাম ব্যুরো: আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগে চট্টগ্রাম আদালতে এক বেঞ্চ সহকারীসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ। এছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন বিচারককে দায়িত্ব দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চারদিন আগে মারধরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে রোববার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন। কয়েকটি এজলাসের দরজায় তালা ঝুলিয়ে আইনজীবীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম জেলা পিপি ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবু মোহাম্মদ হাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঁঞার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এরপর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিলে আইনজীবীরা মামলা পরিচালনায় যোগ দেন।

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম ও জেলা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারীর সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মঞ্জুর আলমের একটি মামলার নথি নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঝগড়ায় রূপ নিলে বেঞ্চ সহকারীসহ ওই আদালতের চার কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে তাকে বেধড়ক মারধর করেন বলে সমিতি বরাবরে দেওয়া এক চিঠিতে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী মঞ্জুর আলম।

জেলা পিপি ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আইনজীবীরা বিক্ষুব্ধ ছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আমি সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে জেলা জজ মহোদয়ের কাছে যাই। তখন আমরা সমিতির কাছে আইনজীবী মঞ্জুর আলম যে অভিযোগ করেছেন, সেটির কপি জেলা জজের কাছে হস্তান্তর করি। তিনি বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ঘটনার সময় ওই আদালতে দায়িত্বরত পাঁচজনকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করেছেন।’

প্রত্যাহারের আদেশ পাওয়া পাঁচজন হলেন- আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুদ্দীন পারভেজ, অফিস সহকারী আব্দুর রহিম ও শংকর দে এবং উমেদার মো. সুমন ও মিন্টু। এদের মধ্যে দুই উমেদার আদালতে অস্থায়ী হিসেবে কর্মরত আছেন।

আইনজীবী মঞ্জুর আলম তাকে মারধরের যে অভিযোগ করেছেন তাতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ চারজন ঘটনায় জড়িত বলা হয়েছে। তিনজন হলেন- সাইফুদ্দীন পারভেজ, আব্দুর রহিম ও মো. সুমন।

ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির তিন সদস্য হলেন- চট্টগ্রামের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আ স ম শহীদুল্লাহ কায়সার, দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আবু সালেম মোহাম্মদ নোমান এবং মীরসরাই সদর আদালতে দায়িত্বরত সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন। তাদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

সারাবাংলা/আরডি/আইই