Friday 10 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গ্রামীণ টেলিকম: শ্রমিকদের মামলায় আইনজীবীর ফি ১৬ কোটি টাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ আগস্ট ২০২২ ১৯:০৩ | আপডেট: ২ আগস্ট ২০২২ ২০:৩৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: গ্রামীণ টেলিকম থেকে পাওনা আদায়ের মামলায় শ্রমিকদের কাছ থেকে ১৬ কোটি টাকা ফি নিয়েছেন বলে আদালতকে হলফনামায় জানিয়েছেন আইনজীবী ইউসুফ আলী। তবে এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা খরচের কোনো খাত দেখাতে পারেননি।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এ তথ্য জানানো হয়। এদিন গ্রামীণ টেলিকম ও শ্রমিক ইউনিয়ন পৃথকভাবে হলফনামা দেয়। পরে অন্যান্য খরচ বাবদ ১০ কোটি টাকা কোন খাতে খরচ হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে দুদিন সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতে শ্রমিকদের আইনজীবী ইউসুফ আলীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম, সাঈদ আহমেদ রাজা, রবিউল আলম বুদু ও অনীক আর হক। গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান।

বিজ্ঞাপন

কোম্পানির মুনাফার অংশ ৫ শতাংশ শ্রমিকের অংশগ্রহণ তহবিল গঠনসহ লভ্যাংশ ২০০৬ সাল থেকে তা শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করার কথা। কিন্তু সেই লভ্যাংশ শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন না করায় শ্রম আদালত ও হাইকোর্টে মামলা করেন তারা। আর গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন।

গত ২৩ মে আদালতের বাইরে উভয়পক্ষের সমঝোতা হয়েছে উল্লেখ করে আইনজীবী ইউসুফ আলী জানান, সম্প্রতি গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা দাবি নিয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। মালিকপক্ষ গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়েছেন, আইন অনুযায়ী যত পাওনা তা পরিশোধ করা হবে। এ কারণে আবেদনকারীরা বলেছেন, তারা মামলাটি আর চালাতে চান না, তাই মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

পরে ৩০ জুন এ আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, মোট ৪৩৭ কোটি টাকা। গ্রামীণ টেলিকম একটি সেটেলম্যান্ট অ্যাকাউন্ট করেছিল, যেটির সিগনেটরি হলেন কোম্পানির এমডি ও ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক। ওই অ্যাকাউন্টে পুরো ৪৩৭ কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে পাওনাদার ব্যক্তিকে তাদের পাওনা হিসেব করে পরিশোধ করা হয়েছে।

শুনানিতে আইনজীবী আহসানুল করীম বলেন, আইনজীবী ফি নিয়েছেন ১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা অন্যান্য ফি।

তখন আদালত বলেন, এটা সিম্পল ব্যাপার। আপনি বলেন যে আপনি এত টাকা ফিস নিয়েছেন। বাকিটা দুদক নাকি বাংলাদেশ ব্যাংক দেখবে সেটা তাদের ব্যাপার।

আদালত আরও বলেন, ১০ কোটি টাকার বিষয়ে বিস্তারিত বলেন। এত লুকোচুরি কেন। সম্পূর্ণভাবে বলতে হবে নির্দিষ্ট করে।

তখন আইনজীবীরা বলেন, তারা সম্পূরক হলফনামা নিয়ে সবকিছু নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করে দেবেন। এরপর আদালত দুদিন সময় দেন হলফনামা দেওয়ার জন্য।

এর আগে গত ৩০ জুন গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানিতে রিটকারীদের আইনজীবীকে ১২ কোটি টাকার বিনিময়ে সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে হাইকোর্ট। পরে গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পাওনা বকেয়া টাকার মধ্যে কে কত টাকা পেয়েছেন, সে বিষয়ে ২ আগস্ট তথ্য দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এর আগে মামলা প্রত্যাহারের শর্তে গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুত ১৭৬ জন শ্রমিকের পাওনা বাবদ ৪৩৭ কোটি টাকায় সমঝোতা করে গ্রামীণ টেলিকম।

তারও আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য পাওনাদি আদায়ের লক্ষ্যে গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন (মামলা নং-২৭১/২০২১) করা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে এ আবেদন দায়ের করা হয়।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এএম