ঢাকা: যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিয়োগপ্রাপ্ত আট শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি চলমান বা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কেন তাদের চাকরি জাতীয়করণ বা আত্মীকরণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুল জারি করেছেন।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (২৪ জুলাই) এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আতিকুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
আদেশের বিষয়টি সারাবাংলাকে নিশ্চিত করে রিটকারী আইনজীবী মো. আতিকুর রহমান বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত আট শিক্ষক-কর্মচারীর চলমান বা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের চাকরি জাতীয়করণ বা আত্মীকরণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে রুলও জারি করেছেন।
আইনজীবী আতিকুর রহমান জানান, নিয়ম মেনে এই আট শিক্ষক-কর্মচারীকে ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথমে তাদের অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাদের চাকরি পূর্ণকালীন ও চুক্তিভিত্তিক করা হয়। তখন ওই প্রতিষ্ঠানের কেবল আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তাদের চাকরি পূর্ণকালীন ও স্থায়ী করা হয়নি।
পরে ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ বা সরকারিকরণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্বে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্মীকরণের লক্ষ্যে স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক ৫৭ জনের নামের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব প্যাটর্নভুক্ত শূন্যপদ ও এগুলোর বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত পূর্ণকালীন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম বাদ দিয়ে শুধু স্থায়ী ৩৪ জনের নাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
আইনজীবী আতিকুর রহমান বলেন, অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ হওয়ার আগে থেকেই স্থায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের মতো পূর্ণকালীন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকরাও কর্মরত। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে পূর্ণকালীন চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তরা চাকরি জাতীয়করণ বা আত্মীকরণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েন।
এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের চাকরি জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় আত্মীকরণের ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান এবং যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশের জবাব না পেয়ে গত ২৯ জুন পূর্ণকালীন চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত আট জন শিক্ষক-কর্মচারী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত আজ (রোববার) তাদের চাকরি চলমান বা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করলেন।
যে আট জনের চাকরি চলমান বা অব্যাহত রাখার নির্দেশ আদালত দিয়েছেন তারা হলেন— গণিত বিভাগের প্রভাষক সিরাজুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের প্রভাষক হোমায়রা আখতার, ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা বিভাগের প্রভাষক মতিউর রহমান, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিভাগের প্রভাষক মতিয়ার রহমান, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সামছুন নাহার, চারু ও কারুকলা বিভাগের সহকারী শিক্ষক উৎপল কুমার বিশ্বাস, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা সহকারী শিক্ষক মাহবুবুল্লাহ এবং সহকারী গ্রন্থাগারিক নন্দিতা নন্দী।