লালমনিরহাট: ধার বিহীন পুরানো কাঁচি, চাকু কিংবা দাও ধারালো করে ব্যবহার উপযোগী করাই তার কাজ। স্থানীয় ভাষায় এই ধার দেওয়ার নাম শান দেওয়া। নিজের তৈরি মেশিনে স্থানীয় হাটবাজারে গিয়ে এই শান দেওয়ার কাজ করে গত ৩৫ বছর ধরে জীবিকা চালিয়ে আসছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার আমিরুল ইসলাম।
আমিরুল ইসলাম উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভূল্ল্যারহাট ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ছমির উদ্দিন পাইকারের ছেলে। তার নিজের বলতে কিছুই নেই। ছেলের জমিতে একপাশে ঘর করে রাত্রিযাপন করেন তিনি।
প্রায়ই দেখা যায়, আমিরুল শান দেওয়া মেশিনটির চাকা সাইকেলের প্যাডেল পা দিয়ে সজোরে ঘুরিয়ে শান দিচ্ছে। এতে একটি পাথরের প্লেট সজোরে ঘুরাতে হচ্ছে তাকে। ঘূর্ণায়মান ওই পাথরের প্লেটের কার্নিশে লোহার চাকু, দা ও কাঁচি স্পর্শ করলে ঘর্ষণে ধার উঠে যায়। এ সময় ঘর্ষণে ফলে আগুনের ফুলকিও বের হয়। এই আগুনের ফুলকি ছিটকে আসে, যা শরীর ও চোখের জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে দুই পায়ে প্যাডেল ঘোরানোর কাজ খুবই পরিশ্রমের। শরীর না কুলালেও জীবিকার তাগিদে তাকে শান দেওয়া মেশিনের প্যাডেল ঘোরাতে হচ্ছে।
আমিরুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে কখনো স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাল্যকাল হতেই জীবিকার তাগিদে পরের ক্ষেতে কামলা খেটে সংসারে আয় উপার্জন করতে হয়েছে। তার বয়স যখন ২৫ বছর তখন থেকেই একটি শান দেওয়া মেশিন কাটের ফ্রেম তৈরি করে শুরু করেন গ্রামে-গঞ্জে হাটবাজারে গিয়ে মরচে ধরা পুরানো কাঁচি, দা ও চাকুতে ধার ওঠানোর কাজ। পরে পুরাতন বাইসাইকেল কিনে সেটাতে শান দেয়ার পাথর সেটিং করে ৩৫ বছর ধরে সেই মেশিনেই চলছে এ কাজ। প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০ টাকা আয় হয়। এ আয় দিয়েই চলছে পরিবারের ভরন পোষণ। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এখনও তাকে এই বয়সে এসে জীবিকার তাগিদে শান দেওয়ার কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি একজন ভূমিহীন মানুষ। এই বয়সে এসে শান দেয়ার কাজ করতে ইচ্ছে করে না। অন্য কোনো কাজও জানা নেই। মরার আগ পর্যন্ত শান দেওয়ার কাজ করে বাঁচতে হবে। অন্য কোনো ব্যবসায় যাওয়ার মত কোনো টাকা পয়সাও নেই।