Sunday 05 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ-মাদরাসা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ জুলাই ২০২১ ২৩:৪৩ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২১ ০২:১১
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও এক দফা বাড়িয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ দফায় আরও এক মাস বাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ফলে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠন এবং ইবতেদায়ি ও কওমি মাদরাসাগুলো আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের সই করা এক বার্তায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে এই বার্তাটি পাঠানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, সারাদেশে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এবং  কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর থাকায় শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ইবতেদায়ি ও কওমি মাদরাসাগুলোর চলমান ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় ৩০ মার্চ দেশের সব স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে করোনা সংক্রমণ কমতে থাকলেও পরে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই সংক্রমণের চিত্র বিপরীতমুখী হতে থাকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২৫ মার্চ মন্ত্রণালয় জানায়, স্কুল-কলেজ খুলবে ২৩ মে। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকেও পিছু হঠতে হয় সরকারকে।

এ পর্যায়ে প্রথমে ২৯ মে পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে সে ছুটি বাড়ানো হয় ১২ জুন পর্যন্ত। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এরপর এক দফায় ৩০ জুন ও পরবর্তী সময়ে সেই ছুটি ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আরও এক মাস বাড়িয়ে সেটি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গিয়ে গড়িয়েছে।

এর আগে, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওই সময় ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর দ্বিতীয় দফায় ৯ এপ্রিল ও তৃতীয় দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সেই ছুটি বাড়ানো হয়। দফায় দফায় সেই ছুটি শেষ পর্যন্ত ১৭ মাসে ঠেকেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে এরই মধ্যে একে একে গত বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষাজুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের এইচএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষাও বাতিল করা হয়। সবশেষ প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি।

সব মিলিয়ে প্রায় দেড় বছর ঝরে গেছে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে। এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও রয়েছে শঙ্কার মুখে। তবে সরকার এখন পর্যন্ত আশাবাদী, এ বছরের এসএসসি-এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, এসএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ এবং এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ।

অন্যদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কেবল বিভাগভিত্তিক নৈর্বাচনিক তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের। চতুর্থ বিষয় কিংবা বাংলা-ইংরেজিসহ আবশ্যিক বিষয়গুলোর পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

সারাবাংলা/টিএস/টিআর