সিরাজগঞ্জ: অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় সিরাজগঞ্জের কৃষকদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আদা চাষ। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি এখন অনেক কৃষক ছায়াযুক্ত জায়গা, পতিত জমি এমনকি বাড়ির ছাদে বড় বড় বস্তায়ও আদা চাষ করছেন। এতে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং বাজারে সারা বছর ভালো দাম থাকায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে আদা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭২ হেক্টর জমিতে। নির্ধারিত জমির পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছায়াযুক্ত স্থান ও বাড়ির ছাদে প্রায় ৬১ হাজার ২০০টি বড় বস্তায় আদার চাষ করা হয়েছে। জেলার সদর, কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, কামারখন্দসহ নয়টি উপজেলাতেই আদা চাষের পরিধি বেড়েছে।
সদর উপজেলার কৃষক বাসেদ সরকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আগে শুধু ধান ও সবজি চাষ করতাম। কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার প্রথমবারের মতো বস্তায় আদা চাষ করেছি। খুব বেশি খরচ হয়নি। গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। বাজারদর ঠিক থাকলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি। আগামী বছর আরও বেশি বস্তায় আদা চাষ করব।’
শাহজাদপুর উপজেলার কৃষক মো. সাইদুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাড়ির পাশে ছায়াযুক্ত পতিত জায়গা ব্যবহার করে আদা চাষ করেছি। এতে জমি নষ্ট হয়নি, আবার বাড়তি আয়ও হবে। আদার পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও সেচ দিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে আরও অনেক কৃষক আদা চাষে আগ্রহী হবেন।’
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, আদা উচ্চমূল্যের মসলাজাতীয় ফসল। রান্নার পাশাপাশি ভেষজ ও ওষুধ শিল্পেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে বছরজুড়েই বাজারে এর চাহিদা থাকে। এ ছাড়া ছায়াযুক্ত স্থান ও বস্তায় সহজেই চাষ করা সম্ভব হওয়ায় অল্প জায়গাতেও ভালো উৎপাদন পাওয়া যায়। এতে অনাবাদি ও অব্যবহৃত স্থানও উৎপাদনের আওতায় আসছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা সারাবাংলাকে বলেন, ‘জেলায় আদা চাষে কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি মৌসুমে ১৭২ হেক্টর জমিতে আদা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রায় ৬১ হাজার ২০০টি বস্তায় আদা চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আদা চাষ লাভজনক হওয়ায় ভবিষ্যতে এর আবাদ আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পতিত জমি, ছায়াযুক্ত স্থান এবং বাড়ির ছাদকে উৎপাদনের আওতায় এনে কৃষকেরা অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আদা চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।’
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাজারে আদার চাহিদা ও মূল্য স্থিতিশীল থাকলে আগামী বছরগুলোতে সিরাজগঞ্জে আদা চাষের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে জেলার মসলা ফসল উৎপাদনেও সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।