ঢাকা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্রলীগ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর সমন্বয়ক হিসেবে কর্মরত তন্ময় আহমেদকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছেন নেত্র-নিউজ নামক এক ওয়েবসাইটের সম্পাদক তাসনিম খলিল। সম্প্রতি তাসনিম খলিল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টের কমেন্টে তন্ময় আহমেদ ‘সাবেক শিবির কর্মী’ বলে মন্তব্য করেন। এর বাইরেও একাধিক ফেসবুক পেজে তন্ময় আহমেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত তাসনিম খলিল। ফেসবুকে আওয়ামী ঘরনার এক্টিভিস্টরা এমনটাই অভিযোগ করছেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঢালাওভাবে সরকার ও আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে তাসনিম খলিল সম্পাদিত নেত্র-নিউজ। তাসনিম খলিল নিজেও একপাক্ষিকভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর শাখা, সরকার ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তার ফেসবুক পেজ থেকে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে এবার সিআরআই’কে আক্রমণ করছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে তাসনিম খলিলের এসব প্রচারণার পেছনে বিশেষ কোনো মহলের স্বার্থ ও ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। এ প্রতিষ্ঠানটি দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও সরকারকে নানা গবেষণার মাধ্যমে সহায়তা করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেন দেশের এক ঝাঁক মেধাবী। রাজনৈতিকভাবে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগঠন থেকে উঠে আসেন। এ প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই তাদের গবেষণা ও তথ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে সহায়তা করে থাকে। একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতিমধ্যে সমাদৃত হয়েছে সিআরআই।
দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অপপ্রচারের অংশ হিসেবেই সিআরআই-এর কোঅর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছেন তাসনিম খলিল— সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ এমনটাই। তাদের দাবি, সিআরআই আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান। গত এক যুগে দেশে দ্রুতগতিতে উন্নয়ন কার্যক্রমে এই প্রতিষ্ঠানের নানা গবেষণা ও তথ্যউপাত্ত সরকারকে সহায়তা করেছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বরাবরই আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেয়। সিআরআই আওয়ামী লীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা উইং হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাই খুবই সঙ্গত কারণে সিআরআই’কে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বিরোধীরা। আর সিআরআই-এর কোঅর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদ মূলত ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি হিসেবেই আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।
মূলত, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় বাংলাদেশের উপর একটি প্রতিবেদন প্রচার হওয়ার পর তাসনিম খলিল ও নেত্র-নিউজ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই প্রতিবেদনটি প্রচার হওয়ার পর আল জাজিরার সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব ও বস্তুনিষ্ঠতার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছে সর্বমহল। কথিত অনুসন্ধানী ওই প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠতার ন্যুনতম মানদণ্ড পূরণেও ব্যর্থ হয়েছে বলে মত দিয়েছেন দেশের সাংবাদিকরা। আল জাজিরার ওই প্রতিবেদনটিতে তাসনিম খলিল ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের চেষ্টায় লাগাতার প্রোপাগান্ডা চালানো ডেভিড বার্গম্যানও জড়িত ছিলেন।
এ ধরনের প্রতিবেদন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে লবিংয়ের মাধ্যমে আল জাজিরা করে থাকে বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। এর আগে বাংলাদেশে প্রধান প্রধান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালেও আল জাজিরা একতরফাভাবে তাদের পক্ষাবলম্বন করে। তাই এবারও আল জাজিরার ওই প্রতিবেদনের উদ্দেশ— বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা বলে মনে করেন অনেকেই।
অনলাইনে আওয়ামী লীগ এক্টিভিস্টদের বড় অংশ বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে এ ব্যাপারে বলছেন, তাসনিম খলিল ও ডেভিড বার্গম্যানদের গুজবভিত্তিক এসব অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্যই হলো দেশের রাজনীতির পরিবেশ ঘোলাটে করে বিশেষ কোনো মহলের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা। দেশের সেনাবাহিনী ও সরকারের বিরুদ্ধে অব্যাহত অপপ্রচার চালিয়ে তাসনিম খলিল ও বার্গম্যান জাতীয় স্বার্থ ও ঐতিহ্যবিরোধী প্রচারণা উস্কে দিয়ে উগ্রবাদীদের মাধ্যমে একাধিকবার দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকার নজির আছে। তন্ময় আহমেদ সিআরআই-এর কোঅর্ডিনেটর হিসেবে অনলাইনে এসব অপপ্রচার-গুজব প্রতিহত করতে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে সত্য তথ্য উপস্থাপন করে থাকেন।
অনলাইনে আওয়ামী পন্থী কর্মীদের অভিযোগ—নেত্র নিউজ গং দেশের প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর মানহানি এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির যে একচেটিয়া অপচেষ্টা ও নতুন প্রজন্মের ব্রেনওয়াশের চেষ্টা করে; সেখানে তাদের প্রোপাগান্ডার বিপরীতে অনলাইননির্ভর তরুণপ্রজন্মের সামনে যুক্তিযুক্ত সত্য তথ্য প্রদান করে ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন সিআরআই। এতে ডিজিটাল প্রজন্মের সচেতন তরুণরাও তাসনিম-বার্গম্যানদের পাতানো ফাঁদে পা না দিয়ে, উল্টো প্রতিবাদ করে বসে। একারণে বিশাল ডিজিটাল প্রজন্মের মধ্যে সিআরআই-এ কর্মরত তন্ময় আহমেদকে বিতর্কিত করতে এবং তার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার সুপরিকল্পিত অপপ্রয়াস চালাচ্ছে নেত্রনিউজসহ অন্যান্যরা।
এর বাইরে তন্ময় আহমেদকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর আরেকটি বড় কারণ রয়েছে বলে মনে করেন তারা। ২০১২-১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে বুয়েট ক্যাম্পাস ঘিরে জামায়াত-শিবিরের লক্ষ্য ছিল ক্রমাগত সহিংসতা ও অপপ্রচার চালিয়ে দেশের অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করে তোলা। সে সময় তন্ময় আহমেদ বুয়েট ক্যাম্পাসে শিবিরের তৎপরতা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর পরে সরকারবিরোধী একচেটিয়া সকল প্রচেষ্টায় বাধা দিতে সিআরআই-এ কর্মরত তন্ময় আহমেদ ভূমিকা রাখেন। এ জন্য তিনি আওয়ামী লীগ বিরোধীদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন।
তাসনিম খলিল ও নেত্র-নিউজ সম্প্রতি করোনাভাইরাস মহামারিকে কেন্দ্র করে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে গণআতঙ্ক তৈরি করেও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ভ্যাকসিন বিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে দেশকে নাজুক পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা অব্যাহত আছে তাদের। এসব ব্যাপারে সিআরআই’র-এর কর্মী হিসেবে তথ্যউপাত্ত ও দেশবিদেশের বহু গবেষণা তুলে ধরে অপপ্রচার ও গুজব প্রতিহত করার কাজ করেন তন্ময় আহমেদ।
তন্ময় আহমেদের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায়। তাকে নিয়ে তাসনিম খলিলের দাবিকে অসত্য বলে দাবি করেছেন পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কর প্রধান দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘২০১৩ সালের ৮ আগস্ট গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকায় শিবিরের হামলায় গুরুতর আহত হয় আমাদের এলাকার ছেলে তন্ময় আহমেদ মুন। সে সময় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল মুন। তার পরিবার ও সে সবসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছে। তার চাচা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি ছিল। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় তন্ময়ের চাচা এবং আমি এক সঙ্গে আন্দোলন করেছি। সে সময় তার হাতে গুলি করা হয়েছিল। তার বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা আওয়ামী ঘরনার মানুষের সঙ্গেই চলেছেন। যে ছেলেটা শিবির ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করার জন্য মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে ছিল শিবির কর্মীদের হামলায়, তাকে কিভাবে শিবির বলছে আর কোন ভিত্তিতে শিবির বলছে আমার জানা নেই।’
তন্ময় আহমেদকে শিবির ক্যাডাররাই প্রাণহানি হামলা করে গুরুতর আহত করেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘মুন যখন হাসপাতালে ছিল আমিও তাকে দেখতে গিয়েছি। হাসপাতালেও এক শিবির কর্মী আটক হয় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পর।’
এ ব্যাপারে তন্ময় আহমেদ বলেন, ‘তাসনিম খলিল আর নেত্র-নিউজ যে সবসময় অসত্য প্রোপাগান্ডা চালায় তার একটি বড় প্রমাণ তাসনিম খলিলের ফেসবুকের কর্মকাণ্ড। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে মিথ্যা গালগল্প ছড়ানোই এদের মূল এজেন্ডা। এসব করে আমাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করলে তা তাদের জন্য বুমেরাং হবে।’
উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের উদ্দেশ্যে দেশে ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটে। এসময় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন এবং গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অনেকের উপর প্রাণনাশী হামলা হয় এবং অনেকেই নিহত হন। সেসময় তন্ময় আহমেদের উপরও হামলার ঘটনা ঘটে।