ঢাকা: বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা চারু বালাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। সোমবার (১০ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ তথ্য জানিয়েছে।
রোববার (৯ মে) ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কনফারেন্স রুমে বীরাঙ্গনা ও শহিদ জায়াদের সহায়তা দেওয়ার জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুলের ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা চারু বালাকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়।
সভা থেকে ফরিদপুরের বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা নারীরা লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের কাছে তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বীরাঙ্গনারা তাদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের কথা যাতে নির্ভয়ে বলতে পারেন সেজন্য নির্মূল কমিটি গত ত্রিশ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আপনাদের স্বীকৃতি এবং সহযোগিতার জন্য নির্মূল কমিটি সাধ্যমতো চেষ্টা করবে।’
এ সময় তিনি চরভদ্রাসনের বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা ভূমিহীন চারু বালা এবং ফরিদপুর সদরে ভাড়া করা একটি রুমে বসবাসরত বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন। অন্যান্য বীরাঙ্গনা এবং শহিদ জায়ারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক এবং সাংবাদিককে পেয়ে তাদের অতীত স্মরণ করে দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। এ সময় তাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সাংবাদিক দিব্যেন্দু দ্বীপের মাধ্যমে শাহরিয়ার কবিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা ১৯৭৫-এ তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিভাতা দশ হাজার টাকায় উন্নীত করেছেন এবং বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা দিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছেন।’
যেসব বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধারা এখনও তালিকাভুক্ত হননি তাদের দ্রুত তালিকাভুক্ত করার জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান। সভা শেষে নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা দিব্যেন্দু দ্বীপ সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা চারু বালার হাতে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থ সাহায্য তুলে দেন। এ সময় সামাজিকভাবে স্বীকৃত এবং আত্মস্বীকৃত অন্য আরও আটজন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাকে শাড়ি উপহার দেওয়া হয়।