Friday 03 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৯ এপ্রিল ২০২১ ১৪:৪৮

ঢাকা: মুঠোফোন গ্রাহকের ব্যক্তিগত ফোনালাপ বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় গ্রাহকরা সংবিধান ও আইনের নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে মহিউদ্দিন বলেন, ‘গ্রাহকের ব্যক্তিগত ফোনালাপ তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা আমাদের সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের ৪৩(খ) ধারায় বলা আছে, চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ে গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার থাকবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (২৬ )ধারায় অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অনুযায়ী (অনুচ্ছেদ-১২) নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে আন্তর্জাতিক সনদ (অনুচ্ছেদ-১৭) জাতিসংঘের কনভেনশন অনুযায়ী (অনুচ্ছেদ-১৪) এবং শিশু অধিকার সনদ (অনুচ্ছেদ-১৬) এ প্রাইভেসিকে অধিকার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১এর৭১ ধারায় টেলিফোনে আড়িপাতার দণ্ডে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি অপর দুজন ব্যক্তির টেলিফোন আলাপে ইচ্ছাকৃতভাবে আঁড়ি পাতে, তাহলে প্রথমত ব্যক্তির এই কাজ হবে একটি অপরাধ এবং তার জন্য তিনি অনধিক দুইবছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৯৭ (ক-এর অধীন সরকার থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থার কোনো কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে না।

মহিউদ্দিন বলেন, ‘আইনে সুস্পষ্ট বলা রয়েছে, গ্রাহকের ফোনালাপ এবং তথ্য সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের এই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় সময় দেখা যায়, ব্যক্তিস্বার্থ, এমনকি রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থে বিভিন্ন ব্যক্তির মান-মর্যাদা ক্ষুন্ন করতেই ব্যক্তিগত টেলিফোন আলাপ প্রায় প্রচার এবং প্রকাশিত হচ্ছে। যা অত্যন্ত বিপদজনক। এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে এই শিল্পের প্রতি মানুষের বিন্দুমাত্র নিশ্চয়তা থাকবে না এবং নিরাপত্তা হারাবে। ফলে এই এই সেবার বিমুখ হতে পারে গ্রাহকরা।’

সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ফোন কল প্রকাশকারী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

সারাবাংলা/ইএইচটি/পিটিএম