চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। পুনঃতফসিলের পর নির্বাচনী কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যেই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আওয়ামী লীগের সাংসদ ও জ্যেষ্ঠ নেতারা বসে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৈঠকে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শুক্রবার (০১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শুরু হওয়া এই বৈঠক দেড়ঘণ্টা পর রাত ৮টায় শেষ হয়।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের আহ্বানে দলীয় এমপিরা বৈঠকে যোগ দেন। এতে চট্টগ্রামের পাশাপাশি কক্সবাজারের দু’জন সংসদ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বৈঠকে ছিলেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীও ছিলেন।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের দলীয় আলোচনা হয়েছে। আর কিছু নয়।’
ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। দলীয় প্রার্থী আছে। অন্যরা নিজস্ব প্রার্থী।’
বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যা বলার মোশাররফ ভাই বলবেন। আমি কিছু বলব না।’
রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম- ৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের সাংসদ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সারাবাংলাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের সাংসদরা আজ (শুক্রবার) আমরা নির্বাচন নিয়ে বসেছিলাম। চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন উপজেলার, কক্সবাজারের বাসিন্দারাও থাকেন। তাদের মধ্যে অনেক ভোটার আছেন। এমপিদের তাদের এলাকার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে, রাজনৈতিভাবে তাদের উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
‘কিছু রাজনৈতিক বিষয়ও এসেছে। সামনে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আছে। তখন কিন্তু আবার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে যাবে। আচরণবিধি অনুযায়ী আমরা এমপিরা তখন কিন্তু প্রচারণায় অংশ নিতে পারব না। সে জন্য নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায় সেটিনিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দলীয় ‘কঠোর অবস্থান’ অব্যাহত থাকার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নওফেল।
চসিকের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মারা গেছেন। সেই ওয়ার্ডে প্রার্থী নির্ধারণ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেখানে সাংগঠনিকভাবে এবং এমপি সাহেব আলাদাভাবে নাম প্রস্তাব করেছেন। সেটার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যাচাইবাছাই করে নাম ঘোষণা করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।’
বৈঠকে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, বোয়ালখালী আসনের এমপি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, রাউজানের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সাতকানিয়ার এমপি আবু রেজা মো. নেজামুদ্দীন নদভী, বাঁশখালীর সংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, কক্সবাজারের সংসদ সদস্য সাইমুম সারওয়ার কমল ও আশেকুল্লাহ রফিক, সংরক্ষিত আসনের সংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান ও দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সদ্যসমাপ্ত বছরের ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট মেয়াদ শেষে বিদায় নেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এরপর ৬ আগস্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে খোরশেদ আলম সুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুনঃতফসিল অনুযায়ী স্থগিত হওয়া সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। প্রচারণা শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ জানুয়ারি।