।। মো. আতোয়ার রহমান মনির, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ।।
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ব্রিজ তৈরির জন্য বড় দু’টি খালের মুখে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এতে চলতি বোরো মৌসুমে পানি সমস্যায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলাকার প্রায় ৫ হাজার কৃষক জমিতে চারা রোপণ করতে পারছেন না। দ্রুত রামগঞ্জের এসব এলাকায় পানি সরবরাহ করা না গেলে ৬ হাজার মেট্রিক টন ধান কম উৎপাদন হবে। চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন চাষিরা।
চাষিরা অভিযোগ করে জানান, সড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক উন্নয়ন ও ব্রিজ নির্মাণ কাজের জন্য রামগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ফরিদগঞ্জ কাউনিয়া ও চাঁদপুর হাজিগঞ্জ পর্যন্ত কয়েকটি বড় খালের মুখে দু’টি করে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। সে কারণে ছোট ছোট খালে পানি আসছে না। পানি না আসায় তাদের হাল দেওয়া ক্ষেত শুকিয়ে আছে। চাষের জন্য বীজও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জেলায় দায়িত্বরত অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কিশোর কুমার মজুমদার বলেন, ‘এবার প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চাষিরা। কিন্তু এক মাস সময় শেষ হলেও রামগঞ্জের চন্ডিপুর, উত্তর নারায়ণপুর, দক্ষিণ নারায়ণপুর, রাজাপুর, নয়নপুর, ভাটের হাট ও সন্ধানপুর এলাকায় এখনো খালে পানি আসেনি। যার কারণে ৬ হাজার মেট্রিক টন বোরো ধান কম উৎপাদন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত বোরো চাষের জন্য ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে অথবা জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে খালে পানি আসে। খালের মুখে দেওয়া ওই বাঁধ দ্রুত অপসারণ না করলে রামগঞ্জে সেচ বন্ধ থাকবে, পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষক। এছাড়া শুকিয়ে যাওয়া শাখা খালগুলো সময়মতো খনন না করায় বিপদ আরও বেড়েছে।

লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শ্রভ্র দত্ত বলেন, ‘উন্নয়ন কাজ সবার জন্যই দরকার। রামগঞ্জে কৃষকদের জন্য ক্ষতি হবে সড়ক জনপথের এমন কোনো কাজ চলমান নেই। হয়তো এলজিডির কাজ হতে পারে, নয়তো পার্শ্ববর্তী জেলার হবে।’
রামগঞ্জ সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকতা প্রবল কৃষ্ণ মজুমদার বলেন, ‘বাঁধের কারণে পানি সংকটের জন্য চাষাবাদ সমস্যার কথা লিখিতভাবে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মোহাম্মাদ রিজাউল করিম বলেন, ‘রামগঞ্জে বাঁধের কারণে যথাসময়ে খালে পানি না আসায় কয়েক জায়গায় কৃষক বোরো ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না, এমন বিষয়ে শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বাঁধ তুলে দিয়ে খালে পানি আনার ব্যবস্থা করা হবে। তা সম্ভব না হলে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সেচের ব্যবস্থা করা হবে।’
সারাবাংলা/এমও