Friday 26 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাড়ছে ৬৪ টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজের সক্ষমতা


১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৭:৫৪ | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৮:৫৬
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

।। জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অংশ হিসেবে দেশের ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের আওতায় এসব স্কুল ও কলেজের ল্যাবরেটরি, ওয়ার্কশপ, যন্ত্রপাতি ও জনবলের ঘাটতি পূরণ করা হবে। সেইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাড়তি শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হবে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ‘কারিগরি অধিদফতরের অধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১ হাজার ৫৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিটি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজকে টিভিটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করা হলে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য ১৯৫৮ সালে সর্বপ্রথম ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ডিটিআই) চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালে এসএসসি ভোকেশনাল এবং ১৯৯৭ সালে এইচএসসি ভোকেশনাল কোর্স প্রবর্তন করা হয়। চালু থাকা ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোকে (ডিটিআই) ২০০৩ সালে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ হিসেবে উন্নীত করা হয়।

এদিকে, সরকার ২০২০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় অন্তত ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় টিভিইটিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাড়ানোর জন্য ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিদ্যমান ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি সাতটি টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করা হয। কিন্তু এসব কোর্সের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব, ওয়ার্কশপ, যন্ত্রপাতি ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাতটি মিটিয়ে এই ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বাড়াতেই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এর আগে একবার প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। ওই সময় পরিকল্পনামন্ত্রী চলমান টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজগুলোর ওপর আইএমইডি একটি প্রতিবেদন প্রয়োজন বলে নির্দেশনা দেন। পরবর্তী সময়ে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সাল পরবর্তী কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের উন্নয়ন সংক্রান্ত কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে চারটি ট্রেডে এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনাল কোর্সের আসন সংখ্যা প্রতি ট্রেডে ৩০ থেকে ৪০ করা হয়। একইসঙ্গে দ্বিতীয় শিফটও চালু করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থী বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি নতুন ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়নি এবং ওয়ার্কশপ নির্মাণ ও যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হয়নি।

তাছাড়া ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করা হয় এবং প্রতিবছর এ কোর্সে ৬০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এই ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের জন্য কমপক্ষে চারটি ওয়ার্কশপ ল্যাবরেটরির প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুনভাবে প্রকল্পটি আবার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে— ৬৪টি একাডেমিক কাম ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণ; যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনা; প্রশিক্ষণ এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরী পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, দেশ-বিদেশে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাকরি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ গড়ে তুলতে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের চলমান শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান উন্নয়ন এবং প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নতুন শিক্ষার্থীর অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

যেসব এলাকায় ৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
প্রকল্পের অধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ যেসব এলাকায় অবস্থিত, সেগুলো হলো— শরিয়তপুর সদর, গাজীপুর সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জ সদর, টাঙ্গাইল সদর, মাদারীপুর সদর, রাজবাড়ী সদর ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা; নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা এবং ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা (জয়পাড়া টিএসসি)।

সারাবাংলা/জেজে/টিআর