ঢাকা: ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে থাকা এস আলম গ্রুপের সুবিধাভোগীদের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা-সংক্রান্ত বিচারিক মামলায় চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহ এতে সঞ্চালনা করেন। ব্যাংকের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা সমাবেশে বক্তব্য দেন।
অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংকের দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তির কাছাকাছি যাওয়ার সময় ব্যাংকের আইনজীবী পরিবর্তন করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে থাকা ব্যারিস্টার কাইয়ুম-কে সরিয়ে সরকারদলীয় একজন জুনিয়র আইনজীবীকে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষের আইনজীবীকেও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, এর মাধ্যমে আদালত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সরকারের হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রতীয়মান হচ্ছে। বিচারের নামে কোনো প্রহসনের রায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা মেনে নেবেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্য ব্যাংকগুলোর মতো ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়ে নুর নবী মানিক বলেন, পরিচালনা পর্ষদ ছাড়া একটি ব্যাংক চলতে পারে না। তাই দ্রুত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফোরামের চলমান সাত দফা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিগগিরই মহাসমাবেশসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন।
এ ছাড়া ২০১৭ সালে কেড়ে নেওয়া ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং এস আলমসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করেছে সংগঠনটি।
ইসলামী ব্যাংকসহ ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আতঙ্ক ও অপপ্রচার বন্ধ, ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকার দাবিও রয়েছে তাদের।
জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে মন্ত্রীদের দেওয়া ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সমাবেশে ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পরিবারের সম্পদ নয়; এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত ও আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা ও ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ফোরামের নেতারা আরও বলেন, গত দুই মাসে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গ্রাহকেরা আমানতের সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন করলে সেখানে রাজনীতি খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।