ঢাকা: কৃষকদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে ১০ টাকার হিসাব খোলার প্রবণতা বাড়লেও এসব হিসাবে জমা কমেছে। চলতি বছরের জুন শেষে কৃষকদের ১০ টাকার হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৫৯টি। আগের প্রান্তিকের তুলনায় হিসাবের সংখ্যা শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ বাড়লেও এসব হিসাবে মোট আমানত কমেছে ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ফলে হিসাব বাড়লেও কৃষকদের ব্যাংকে থাকা সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৬ প্রান্তিকের নো-ফ্রিল হিসাব সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন শেষে কৃষকদের জন্য খোলা ১০ টাকার হিসাবগুলোতে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭৭ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই আমানত কমেছে ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
অর্থাৎ, তিন মাসের ব্যবধানে কৃষকদের হিসাবের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও ব্যাংকে তাদের জমা অর্থ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এতে বোঝা যায়, নতুন হিসাব খোলার প্রবণতা থাকলেও এসব হিসাবে অর্থ জমা রাখার সক্ষমতা বা প্রবণতা কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম নীতিগত লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচন। এ উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব ব্যাংককে অতি দরিদ্র মানুষের জন্য হিসাব খোলার নির্দেশ দিয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষ সরকারের বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে গ্রহণের সুযোগ পান। পাশাপাশি মাত্র ১০ টাকা দিয়ে খোলা হিসাবের মাধ্যমে তারা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে সঞ্চয় করতে পারেন।
এদিকে, জুন ২০২৬ শেষে অতি দরিদ্রদের জন্য খোলা হিসাবের সংখ্যাও বেড়েছে। এ ধরনের হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ১০ হাজার ২৯২টি। আগের প্রান্তিকের তুলনায় অতি দরিদ্রদের হিসাব বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের ফলে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা কৃষক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হিসাবের সংখ্যা বাড়লেও তাদের আমানত কমে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের সঞ্চয় সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।