Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাংলাদেশি উপজাতির সহায়তায় চাইনিজ নাগরিকের প্রতারণা, মাসে পাচার ২৫০ কোটি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৪০ | আপডেট: ২ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৫১

ঢাকা: রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। বাংলাদেশি উপজাতি নারী ঝর্ণার ভাড়া বাসা ব্যাবহার করে জুয়া ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো চক্রটি। এর মাধ্যমে মাসে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হতো।

রোববার (২ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

গ্রেফতাররা হলেন- ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)।

শফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ডিবি সাইবার ক্রাইমের একটি চৌকদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ফ্লাটে অভিযান চালায়। ওই ফ্লাটটি একটি বাংলাদেশি উপজাতি নারী ঝর্ণা ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং ছয় তলা বিল্ডিং পুরাটাই চাইনিজদেরকে ভাড়া দিয়েছেন। একতলায় উনি থাকেন। আর পাঁচটা ফ্লোর উনি চাইনিজদেরকে ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে চাইনিজরা বিভিন্ন সময় এসে হোটেলের মত থাকে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ওই বিল্ডিংয়ের চারতলা এবং পাঁচ তলায় আমরা পুরো ফ্লাটে যাই। যেয়ে দেখি ওখানে অনলাইন গেটওয়ে জুয়াসহ অন্যান্য প্রতারণামূলক কাজ হয়। সেখান থেকে অনেকগুলো ডিভাইস জব্দ করছি। এই অবৈধ কাজে ব্যবহৃত ১৪টি ল্যাপটপ ১৬টি মোবাইল ও ছয় হাজার সিম জব্দ করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রোভাইডারের সিম ও ২০টি গেটওয়ে মেশিন ও বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এ সময় নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

চক্রটির কাজের প্রক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় মোবাইলে বিভিন্ন মেসেজ আসে। যেখানে বলা হয়, অফার পেতে হলে এখানে ক্লিক করুন, চাকরির জন্য এখানে ক্লিক করুন বা অতিরিক্ত ইনকামের জন্য এখানে ক্লিক করুন। আপনি যখন ওখানে ক্লিক করবেন তখন আপনার কাছে অফার আসে। এই অফারগুলোর জন্য আপনাকে যে পেমেন্ট করতে হবে সেটা গেটওয়ের জন্য প্রায় ছয় হাজার সিম ব্যবহার করে। আমরা সেগুলো পেয়েছি এবং প্রোভাইডারের প্রায় ১০-১২ হাজার সিমের যে স্লটগুলো আছে স্লটগুলো পেয়েছি। চক্রটি একটা মোবাইল দিয়ে ১২টা সিম ব্যাবহার করে প্রতারণা করতো। চক্রটি প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের ইএমআই নাম্বার পরিবর্তন করার ফলে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এই চক্রকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি এবং আগামী এক মাসে বাংলাদেশ থেকে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচার হওয়ার বাঁচতে পেরেছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, অনেকগুলো চাইনিজ কোম্পানির চাইনিজরা এসে এই কাজগুলো করছে। কাজেই অনলাইন প্লাটফর্মে লোভে পড়ে অনেকেই দিন দিন সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর