ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় ‘আবারো ভিজবো একসাথে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নৃত্যানুষ্ঠান ‘ঘনঘটা ২’। এ সময় অনুষ্ঠান থেকে চট্টগ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় তহবিলও সংগ্রহ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার অর্থি আহমেদের উদ্যোগে এবং চারুকলা অনুষদের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরুকলা অনুষদে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। পুরো আয়োজনজুড়েই বন্যার্তদের সহায়তায় অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে।
দেড় ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে মোট ১৬টি নৃত্য পরিবেশন করা হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলার লোকজ ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত এসব পরিবেশনায় অংশ নেন শিশু থেকে প্রবীণ বহু শিল্পী।
এ বিষয়ে অর্থি আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রায় চার মাস আগে থেকেই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বন্যার পর আয়োজকেরা মনে করেছেন, এমন দুর্যোগকে উপেক্ষা করা যায় না।’
অর্থি আহমেদ আরও বলেন, ‘শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি আমাদের একটি দায়িত্ব রয়েছে। তাই বর্ষা উদযাপনের পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও চেষ্টা করছি।’
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অর্থি আহমেদ ড্যান্স অ্যাকাডেমির সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে অনুদান দেবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও ভেন্যুতে স্থাপিত জাগো ফাউন্ডেশনের দু’টি বুথের মাধ্যমে বন্যার্তদের জন্য অনুদান দিতে পারবেন।
অর্থি আহমেদ জানান, নগরজীবনে বর্ষা এখন অনেকের কাছেই জলাবদ্ধতা ও যানজটের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অথচ বাংলার সংস্কৃতিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বর্ষা উৎসবের অংশ। সেই সাংস্কৃতিক চেতনাকে নতুন করে সামনে আনতেই এই আয়োজন। মানুষ যেন শুধু বর্ষা উদযাপনই না করে, একইসঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও সুযোগ পায় আমরা এমন একটি পরিসর তৈরি করতে চেয়েছি।
তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ হয়তো খুব বেশি হবে না উল্লেখ করে অর্থি বলেন, ‘সংকটের সময়ে শিল্পীদের নির্লিপ্ত থাকার সুযোগ নেই।’
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে শিশু ও প্রথমবারের মতো মঞ্চে ওঠা নৃত্যশিল্পীরা, তেমনি রয়েছেন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক ও গৃহিণীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।