Thursday 16 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মেট্রোরেলের ৪ পিলারের বিয়ারিং প্যাড বদলের সুপারিশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ জুলাই ২০২৬ ১৩:০৫

ঢাকা: রাজধানীর মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি পিলারের বিয়ারিং প্যাড দ্রুত পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে পিলার ও উড়ালপথের বিমে থাকা ফাটল মেরামত, স্টেশন ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে জলাবদ্ধতা থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং রেললাইন পরীক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) হাইকোর্টে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ ও ৪৪৮ নম্বর পিলারের বিয়ারিং প্যাড পরিবর্তন করতে হবে। আদালত এক মাসের মধ্যে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালামের মৃত্যু হয়। এর আগের বছরও একই ধরনের আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৯ অক্টোবর স্বাধীন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আদালত। কমিটিকে মেট্রোরেলের সব লাইন ও পিলারের কাঠামোগত সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। রিটকারীদের আইনজীবী তানভীর আহমেদ জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি এবং পদ্ধতিগত এই তিন ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি সুপারিশগুলো ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব পিলারে ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে সেখানে নিয়মিত ফাটল ও দেবে যাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সব বিয়ারিং প্যাড দ্রুত প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি পিলার ও উড়ালপথের বিমে থাকা ফাটলের কারণ নির্ণয় করে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে মেরামত করতে হবে।

এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমের আগে সব স্টেশন ও বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পানি প্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা এবং রেললাইন নিয়মিত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়েছে। যেসব ট্রেনের চাকায় ফাটল বা গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়বে, সেগুলো মেরামত না হওয়া পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটি আরও বলেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করতে হবে। ঠিকাদারের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে, যাতে যেকোনো দুর্ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর