সিলেট: জীবিকার কঠিন তাগিদে নিজের সোনালী যৌবন আর রঙিন বসন্তগুলো বিসর্জন দিয়েছিলেন সুদূর ইতালির মাটিতে। বুকভরা স্বপ্ন আর দুচোখ ভরা আশা নিয়ে বছরের পর বছর হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছেন শুধু পরিবারের মুখে একটুখানি অনাবিল হাসি ফোটানোর জন্য। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের সেই ক্লান্তিময় অধ্যায়ের ইতি টেনে, অবশেষে হাসিমুখে আপনজনদের কাছে ফিরছিলেন তিনি।
কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম ও হৃদয়বিদারক পরিহাস-যে প্রিয় চেনা উঠোনে পা রাখার কথা ছিল আনন্দের ঢেউ তুলে, সেখানে আজ বইছে কান্নার রোল। নিজের আপন ঠিকানায় আর জীবিত ফেরা হলো না তার; মাঝ-আকাশেই থমকে গেল একটি স্বপ্নময় জীবনের গল্প। তিনি রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফখরুল ইসলাম।
জানা যায়, গত মাসের ১৭ জুন ইতালি থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে টার্কিশ এয়ারলাইনস বিমানের ভেতরেই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে জর্জিয়ায় বিমান অবতরণ করা হয়। এবং সেখানের একটি হাসপাতালে ২৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত ইতালি প্রবাসী ফখরুল ইসলাম মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর এলাকার মহুবন্দ গ্রামের মোকাম বাড়ির বাসিন্দা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইতালিতে সুনামের সাথে বসবাস ও কর্মজীবন পার করছিলেন ফখরুল। স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাতে এবং চিরচেনা জন্মভূমির টানে তিনি সম্প্রতি দেশের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন।
কিন্তু উড্ডয়নরত অবস্থায় বিমানের ভেতরেই আকস্মিকভাবে তীব্র শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকলে বিমানের পাইলট জরুরি ভিত্তিতে জর্জিয়ার একটি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। বিমান অবতরণের পর স্থানীয় চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত ফখরুল ইসলামকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে সেখানেই তার জীবনের চিরসমাপ্তি ঘটে।
এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর বড়লেখার মহুবন্দ গ্রামে পৌঁছামাত্রই পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা ও গভীর শোকের ছায়া। প্রবাসীর বাড়ির আঙিনায় এখন কেবলই স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর প্রতিবেশীদের চোখের জল। যে মানুষটি নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে বিদেশের মাটিতে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, সেই প্রিয় ফখরুলের নিথর দেহটি এখন কফিনবন্দি হয়ে ফিরছে স্বজনদের কোলে।
প্রবাসের দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের এমন বেদনাদায়ক বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মুসল্লিরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।