Wednesday 15 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ডিবির সাবেক কর্মকর্তা নাজমুলসহ ৪ জনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ জুলাই ২০২৬ ২০:৩৩

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হক – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: রিমান্ডে রেখে ৭৬টি চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হকসহ চারজনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট আসামিদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ধানমন্ডি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব এবং মোকাররম হোসেন জিমি।

বিজ্ঞাপন

শুনানির সময় মামলার বাদী মজুমদার আরিফুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার পক্ষে আইনজীবী আফজাল হোসেন মৃধা আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। তবে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর মজুমদার আরিফুর রহমান এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটি তদন্ত করে। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২১ মে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান সাইদুর রহমান হাবিবের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তার দুটি সোয়েটার কারখানার আধুনিকায়নের জন্য চীন থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করেন। পরে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, পাওনা আদায়ের চাপ দিতে একপর্যায়ে কারখানার যন্ত্রপাতির পাসওয়ার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সমঝোতার মাধ্যমে কারখানা চালু হলেও পুনরায় বিরোধ দেখা দেয় এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

এরপর সাইদুর রহমান হাবিব উত্তরা পশ্চিম থানায় আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলাটি পরে ডিবির কাছে তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়। ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি আতিকুর রহমান-কে গ্রেফতার করা হলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রিমান্ড চলাকালে ১৫ জানুয়ারি রাতে মামলা নিষ্পত্তির প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকে থাকা আতিকুর রহমানের প্রতিষ্ঠানের হিসাবের ৭৬টি চেকে সাইদুর রহমান হাবিব-এর নাম বাহক হিসেবে উল্লেখ করে তার সই নেওয়া হয়।

পরদিন আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সাইদুর রহমান হাবিব চারটি চেক ফেরত দিলেও আরও চারটি চেক নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জামিনের শর্ত হিসেবে আপস-মীমাংসার বিষয়টি আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করারও অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডির তদন্তে মো. নাজমুল হক, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব ও মোকাররম হোসেন জিমির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৫০৬ ও ১০৯ ধারার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/টিএম/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর