ঢাকা: বাংলাদেশে মানসিক সমস্যায় আক্রান্তদের ৯২ শতাংশেরও বেশি মানুষ কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য জানান।
তিনি জানান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে বর্তমানে জনসংখ্যার অনুপাতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এখনও পর্যাপ্ত নয়। প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন এবং সরকারি খাতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন প্রায় ৩৫০ জন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘাটতি পূরণে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালকে বিশেষায়িত সেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং ২০২০-২০৩০ মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পৃথক পরিচালক পদ সৃষ্টির বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।
মন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেন্টাল হেল্থ গ্যাপ অ্যাকশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে সারা দেশের ১০টি জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চারটি জেলায় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি চলছে। দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য টেলিমেডিসিন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শসেবা চালু রাখা হয়েছে।