রাজবাড়ী: লিচু নয়, তবে স্বাদে-গন্ধে অনেকটাই লিচুর মতো। রসালো সুস্বাদু ফলটি এলাকাভেদে বিভিন্ন নামে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে আঁশফল বা কাঠফল নামে পরিচিত। এ ফলটি পিচফল হিসেবে অধিকাংশ লোক চিনেন। আবহাওয়া অনকূলে থাকায় রাজবাড়ীতে ভালো ফলন হয়েছে। রাজবাড়ী শহরের বড় বাজারের অলিগলি থেকে শুরু করে নামিদামি ফলের দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে এই ফলটি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শহরের বড় বাজারের বিভিন্ন ফলের দোকান, ১ নম্বর রেলগেইট এলাকা এবং ৫ তালা এলাকাতে ভ্যানে ও বসে একশত পিচ এই পিচফল ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করছে।
একসময় রাস্তার ধারে, বাড়ির আঙিনায় কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে অযত্ন-অবহেলায় জন্মানো এই ফলের তেমন কোনো বাণিজ্যিক মূল্য ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। এখন কাঠ লিচুর চাহিদা ও বাজারমূল্য বাড়ায় অনেকে বাড়িতে পুরোনো গাছের পরিচর্যায় মনোযোগ দিচ্ছেন।
পিচফল কিনতে আসা রাকিব বলেন, ‘আগে এই পিচফল এতটা জনপ্রিয় ছিল না। তবে গত কয়েক বছরে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমার বাচ্চারা ও বাড়ির সবাই এই ফল খুব পছন্দ করে।’

ছবি: সারাবাংলা
স্কুল ছাত্র সোহাগ বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাড়িতে গাছ আছে । শহরে থাকি এখন কিনে খেতে হয়। ২ ঝোপা অর্থাৎ ১০০পিচ ৬০ টাকা দিয়ে কিনলাম। খেতে অনেক ভালো লাগে।’
১ নম্বর রেলগেইট এলাকাতে পিচফল বিক্রেতা বিদ্যুৎ বলেন, ‘এক সময় এটা কেও কিনতো না, এখন সবাই খাই। আমি গোদার বাজার এলাকা থেকে কিনে এনেছি। লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই এই পিচফলটির বিক্রি বেড়ে যায় এবং ভালো চাহিদা রয়েছে। ১০০ পিচ অর্থাৎ ২আঁটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছি।’
৫ তলা মোড় এলাকায় ভ্যানে করে পিচফল বিক্রি করছিলেন আমজাদ। তিনি বলেন, ‘আমি বিনোদপুর নতুন পাড়া এলাকা থেকে কিনে এনেছি। ভালো চাহিদা রয়েছে। বিক্রি ভালই হচ্ছে।’
রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার গোলাম রাসূল বলেন, ‘রাজবাড়ীতে এখনো বাণিজ্যিক ভাবে কেও আঁশফল চাষ করছে না। তবে অনেক বাড়িতে রয়েছে এবং এবছর ভালো ফলন হয়েছে।’
ফলটির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আঁশ ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খনিজ উপাদান ও ভিটামিন-সি রয়েছে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এই ফল খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে।’