ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক থেকে লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আগামী ১৮ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় গ্রাহক মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।
সোমবার (৬ জুলাই)রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটি জানায়, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের আহ্বায়ক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থা ও জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রেমিট্যান্স, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের বড় একটি অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, গত ২৪ মে থেকে গ্রাহকেরা সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন। এর অংশ হিসেবে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৭ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে তারা দ্রুত একটি স্বাধীন, পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তায় গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সাত দফা দাবির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ব্যাংকের প্রতি আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
ফোরামের নেতারা দাবি করেন, ব্যাংকগুলোর মালিকদের সংগঠন বিএবি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন এবিবিও ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের সংকটের সমাধান না হলে দেশের ব্যাংকিং খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে পুনর্ব্যক্ত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—আলোচনার মাধ্যমে স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ২০১৭ সালে পরিবর্তিত মালিকানা কাঠামো পুনর্বিবেচনা, ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংক-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার।
পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ জুলাই জেলা শহরের শাখাগুলোর সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৮ জুলাই শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাতীয় গ্রাহক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।