ঢাকা: দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ পেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার কিশোর নাঈম হাসান নাহিদ।
সোমবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হাজী ইয়াকুব নাহিদের হাতে ১৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন।
এর মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেল নাহিদ। এর আগে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। নাহিদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের রায় বাস্তবায়ন হওয়ায় নাহিদ তার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ পেয়েছে। পাশাপাশি পড়ালেখার জন্য তাকে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
গত বছরের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিটের রায় বহাল রাখে। তার আগে ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় কারখানার মালিক হাজী ইয়াকুব-কে তলব করেছিল আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে ১৫ লাখ টাকা এবং ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১৫ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করতে হবে। নাহিদ ১০ বছর পর সেই ডিপোজিটের অর্থ তুলতে পারবে। একইসঙ্গে এইচএসসি পাস না করা পর্যন্ত তাকে মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাতা দিতে হবে।
২০২০ সালের ১ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঘটনাটি সামনে আসে। তখন নাহিদের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। করোনাকালে তার বাবা কর্মহীন হয়ে পড়লে সংসারের চাপ সামলাতে তাকে ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে পাঠানো হয়। কাজ করার সময় মেশিনে তার ডান হাত আটকে যায়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে হাতটি কেটে ফেলতে হয়।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে নাহিদের বাবা হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করে এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নাহিদ অবশেষে আদালতের নির্দেশিত ক্ষতিপূরণ পেল।