Friday 03 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো জাপানের ৫টি পেট্রোল বোট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ জুলাই ২০২৬ ১১:৩০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২৬ ১২:২৬

চট্টগ্রাম: দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে জাপানের দেওয়া পাঁচটি উচ্চগতির পেট্রোল বোট।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাপানের অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচির আওতায় দেওয়া এসব পেট্রোল বোট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি। এছাড়া জাপানের প্রতিনিধিদল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে পাঁচটি উচ্চগতির পেট্রোল বোট সংগ্রহে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই হয়। একই বছরের নভেম্বরেই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বানৌজা নির্ভীকে নৌবাহিনীর সদস্যদের বোট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বোটের দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ১৫ মিটার, প্রস্থ ৩ দশমিক ৫৩ মিটার, গভীরতা ১ দশমিক ৭৮ মিটার এবং ধারণক্ষমতা ১৩ দশমিক ৫ টন। বোটগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। কম গভীরতার জলপথে চলাচলের উপযোগী হওয়ায় নদী, মোহনা ও উপকূলীয় এলাকার সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে দ্রুত ও কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

আইএসপিআর বলছে, নতুন এসব পেট্রোল বোট দেশের সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল ও নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া ওএসএ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্প বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।

সারাবাংলা/এসএন/এনজে