Thursday 02 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মানবাধিকার আইনে সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চলবে: টিআইবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ জুলাই ২০২৬ ১৫:৪৯

ঢাকা: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় অসঙ্গতি রয়েছে। এখানে আমাদের সুপারিশগুলো সরকার বাস্তবায়ন না করলে আন্দোলন চলবে। আর ক্ষমতা কোনো চিরস্থায়ী বিষয় না।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬: হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) ও টিআইবির পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ বিষয়ক একটি পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় টিআইবি থেকে ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পূর্বে যেটা দেখা যায়- যারা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়, তারা কিন্তু আত্মঘাতী হয়, তারা নিজেদের জন্য ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তৈরি করে। আর ক্ষমতা কোনো চিরস্থায়ী বিষয় না। আজকে যে প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করা হচ্ছে, রাজনৈতিক বায়াস বা দলীয় কুপ্রভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠানের অকার্যকারিতা এবং নেতিবাচক যে ফল হয়, সেটার ভুক্তভোগী কিন্তু আবার আজকে যারা দায়িত্বে আছেন, তারাই সেটার শিকার হয়। এটা কিন্তু চিরন্তন ও বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলে। মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের যারা ক্ষমতায় থাকেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকেন, যারা জনগণের প্রতিনিধি বা অন্য সরকার যারা আছেন—তারা শুধুমাত্র কেন অ্যাডহক ভিত্তিতে ক্ষণস্থায়ী সাময়িক সুবিধার জন্য এরকম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেন?

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমাদের তুলনায় অনেক বেশি কর্তৃত্ববাদী ও সুবিধাবাদী সরকার অনেক দেশে আছে। কিন্তু এরকম সবগুলো জাতীয় প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে, অকার্যকর করে, ডিসফাংশনাল করে, পেশাগত দলীয়করণ করে নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রকে এরকম গণতন্ত্র থেকে এভাবে প্রহসনের গণতন্ত্রে পরিণত করে পিছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এরকম দৃষ্টান্ত পৃথিবীর অন্য কোন দেশে আছে জানা নেই। আমি হতাশার সঙ্গে, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে এ কথা বলছি। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বর্তমান সরকার অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি যে অনেক জঞ্জালের ওপর তারা দায়িত্ব নিয়েছে। অবশ্যই চট করে পরিবর্তন তারা করতে পারবে না, কিন্তু কিছু কিছু স্ট্র্যাটেজিক, কৌশলগত দিক থেকে যদি তারা সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারে, তাহলে তারা নিজেদের প্রতি নিজেদের অন্যায় করবেন। জনগণের প্রতি তো অবশ্যই। পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যে শক্তি সরকারের ভেতরে আছে, সেটা রাজনৈতিক দিক থেকেও এবং তার চেয়ে অনেক প্রভাবশালী শক্তি আমলাতন্ত্রের ভেতর। যেকোনো একজন সাধারণ চোখে যদি বিশ্লেষণ করেন, পুরো বিষয়টা আসছে আমলাতন্ত্র থেকে এবং সেটা পোশাক এবং সজ্জার দ্বারা আমলাতন্ত্রকে মনে হতো।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, জনগণের ওপর যদি চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে দুইটা জিনিস হবে। তাহলে তো সরকার প্রমাণ করবে যে প্রকারান্তরে আইনকে সংশোধন সংসদের বাইরে…। কিন্তু সরকার বা জাতীয় সংসদ মানবাধিকারের স্বাধীন কার্যক্রম যেন মানতে পারে, মানবাধিকার কমিশনও সেটা চায় না। এটা আমরা মনে করি এবং সেই আঙ্গিক থেকেই আমাদের যেহেতু আমরা মানবাধিকারের বিষয়ে কাজ করি, করে যাচ্ছি, করে যাব। সেই অবস্থান থেকেই আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। তারপর যদি জনগণের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয় এমন একটা কমিশন, যেটি অকার্যকর, যেটা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, সরকারের কোনো কর্তৃত্বের বাইরে কিছু করতে পারবে না—সেটা সরকারের জন্য বিড়ম্বনা হবে। এটা সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যকর না হওয়ার ফলে যে মানুষের তিক্ত অভিজ্ঞতা, সেই মানুষের মধ্যে কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিরা আছেন। তারা আজ সেই ইতিহাসকে, সেই অভিজ্ঞতাকে কেন ভুলে যায়? আমরা এটা মনে করি না যে এটা ভুলে যাবেন। তারা এটা গুরুত্বসহ নেবেন। সেটা যদি ভুলে যান, তাহলে আমরা সেটা মেনে নেব না।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে