বিশ্বকাপ নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল। তা হতে দেননি স্টিফেন এস্তাকিও। কানাডা অধিনায়কের একমাত্র গোলে চলতি আসরের নকআউট পর্বে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে কানাডা।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ১৬তে পা রাখল সহ-আয়োজক দেশটি। কোয়ার্টার ফাইনারে নেদারল্যান্ডস বা মরক্কোর কোনো প্রতিপক্ষকে পাচ্ছে তারা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ইনগলউডে পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য ছিল কানাডার। বলের দখল, আক্রমণ, গোলের সুযোগ—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু বারবার হতাশ করেছে ফিনিশিং, আর দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্দান্ত রক্ষণ।
প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত কানাডা। কর্নার থেকে বম্বিতোর হেডে গোলরক্ষক উইলিয়ামস পরাস্ত হলেও গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন মদিবা। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে বিরতির আগ পর্যন্ত দলকে সমতায় রাখেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা ধরে রাখে কানাডা। ৬৫ মিনিটে ওলাওয়াসেই একক প্রচেষ্টায় গোলরক্ষককে কাটাতে না পারলেও ফিরতি বলে গোলের সামনে সুযোগ পেয়ে যান জোনাথন ডেভিড। কিন্তু প্রায় খালি পোস্টে যাওয়া বল অবিশ্বাস্য গতিতে ফিরে এসে হেডে ক্লিয়ার করেন এমবোকাজি। ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার এই ডিফেন্ডারের রক্ষণ।
তবে এত প্রতিরোধও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে জালের দেখা পান কানাডা অধিনায়ক এস্তাকুইও। সেই এক গোলেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কানাডার ইতিহাসে স্মরণীয় এক জয় নিশ্চিত হয়।
লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রশংসা কুড়ালেও আক্রমণে ছিল নিষ্প্রভ। শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা না পাওয়ায় প্রথম নকআউট ম্যাচেই শেষ হয়ে যায় তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। আর স্বাগতিক সমর্থকদের উল্লাসে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে কানাডা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল মাত্র তৃতীয় নকআউট ম্যাচ, যেখানে মুখোমুখি হয়েছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৩০–এর বাইরে থাকা দুটি দল। কানাডার র্যাঙ্কিং ৩২, দক্ষিণ আফ্রিকার ৫৪।