চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর মো. জায়হান নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন- মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা। তাদের বসতঘরের পেছনে ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় জায়হান। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে পাওয়া যায়নি। সন্ধান না মেলায় পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার এবং একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিঠিটি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে অভিযান শুরু করে।
শিশুটির বাবা শাহজাহান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তার ছেলে নিখোঁজ হয়। পরে ঘরের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে বলা হয়, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন…আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি। রাখার পর তুই সহ তোর ফ্যামিলির সবাই বাসার ভিতর ঢুকে যাবি। ঢুকে গিয়ে দরজা জানলা সব বন্ধ করে দিবি। যদি কোনো চালাকি করস তাহলে আমার কোনো ক্ষতি হবে না। তোর ছেলেকে জীবনে খুঁজে পাবি না। মোবাইলটা তোর ছেলেকে তোকে দেখানোর জন্য…আর মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।’
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, আটকদের মধ্যে এক কিশোরীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। মরদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।