ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং খাতের কিছু আইন ও বিধান ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার। তিনি বলেছেন, অতীতের কিছু অনিয়ম ও অপরাধের কারণে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের সুযোগ সীমিত করে দেওয়া উচিত নয়। বর্তমান বাস্তবতায় ব্যাংকিং-সংক্রান্ত কিছু আইন পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
বুধবার(১৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল হাই সরকার বলেন, দেশের আর্থিক খাতে এমন কিছু ‘কালাকানুন’ রয়েছে, যা ব্যবসা ও শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। অতীতে কেউ অপরাধ করলে তার দায় ভবিষ্যতের সৎ ও যোগ্য উদ্যোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়। তাই সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব আইন নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত।
একাধিক ব্যাংকে পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, যারা একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সক্ষমতা রাখেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রফতানি সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি জানান, নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে ক্ষমতার প্রভাবে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে নেওয়া কোনো স্বাভাবিক ব্যাংকিং প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি এক ধরনের লুটপাট। এর ফলে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী ব্যাংক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা বা পুরোনো মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল মাতলুব আহমাদ ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, যদি কোনো প্রকৃত মালিককে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তাদের পুনরায় দায়িত্ব বা মালিকানায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভালো ট্র্যাক রেকর্ড থাকতে হবে এবং ব্যাংকের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে। ব্যাংককে সচল ও শক্তিশালী করার স্বার্থে প্রয়োজন হলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ পুরোনো মালিকদের আবারও দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।