চমেক ছয় দফা দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ‘ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন’। একই দাবিতে ক্লাসও বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৭ জুন) সকাল ৮টা থেকে তারা কর্মবিরতির শুরু করে এবং সকাল ১১টা থেকে ক্লাসও বর্জন করে শিক্ষার্থীরা।
সংগঠনের দফতর সম্পাদক মো. ইরফানুর রহমান জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলায় দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন চলছে। ছয়টি দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি চলবে।
দাবিগুলো হচ্ছে- স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে গৃহীত এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে উন্নীতকরণ, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ এবং বিএমডিসি ২০২৫ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, আমরা রোগীদের স্বার্থ বিবেচনা করে কর্মবিরতি পিছিয়েছিলাম। প্রশাসনকে শুরুতে ৪৮ ঘণ্টা ও পরে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। কিন্তু আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি পালন করতে হচ্ছে।